‘না’ শব্দটির অর্থ আমি জানি: ধর্ষণ মামলায় সাফাই রাসেল ব্র্যান্ডের

জাতীয় অর্থনীতি বিনোদন: ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মারাত্মক সব অভিযোগে অভিযুক্ত ব্রিটিশ কমেডিয়ান ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রাসেল ব্র্যান্ড বুধবার (২৮ অক্টোবর) লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে প্রথমবারের মতো সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের সাফাই গেয়েছেন। নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, কারও অসম্মতিতে তিনি কোনো কাজ করেননি। তবে বিচারে তার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে এখন পর্যন্ত একজন মানুষও এগিয়ে আসেননি বলে আদালতে স্বীকার করেছেন তিনি।

লন্ডনের আদালতে বর্তমানে রাসেল ব্র্যান্ডের এই হাইপ্রোফাইল মামলার বিচারকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ৪৭ বছর বয়সী এই তারকার বিরুদ্ধে ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে মোট ছয়জন নারীকে ধর্ষণ, যৌন হামলা এবং যৌন নিপীড়নের চেষ্টার মোট সাতটি অভিযোগ রয়েছে। 

এর মধ্যে ১৯৯৯ সালে বোর্নমাথের একটি হোটেলে এক নারীকে ধর্ষণ, ২০০৪ সালে সোহোর একটি বারের টয়লেটে অপর নারীকে মুখমৈথুন করতে বাধ্য করা এবং ২০০৯ সালে নিজের বাসায় এক নারীকে পায়ুপথে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৩ সালে চ্যানেল ফোর ও দ্য সানডে টাইমসের যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর এই অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসে।

image

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ব্র্যান্ড বলেন, “এই অভিযোগগুলো আমার জীবনকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।” নিজের পক্ষে কোনো সাক্ষী না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, অভিযোগের পর কেউ তার পাশে দাঁড়াতে চায়নি। প্রসিকিউশনের জেরার মুখে নিজের যৌন আচরণ রক্ষা করে তিনি দাবি করেন, “যেকোনো সম্পর্কে সম্মতি একটি মৌলিক ও অপরিহার্য বিষয়, যা যৌনতার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেউ ‘না’ বলে, তবে সেই ‘না’-এর অর্থ আমি খুব ভালোভাবেই বুঝি।”

অভিযোগকারীদের দাবি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা হিসেবে উড়িয়ে দিয়ে তার আইনজীবী জানান, তিনি কখনোই জোরপূর্বক কিছু করেননি। মামলাটির বিচারকাজ এখনও চলমান রয়েছে এবং জুরি বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছে সবাই।

জা. অর্থনীতি/এআর