আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও হঠাৎ তার ফোন বন্ধ পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা-মা। পরে খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন, মেয়ে কয়েক মাস আগেই লন্ডন ছেড়ে ভারতে ফিরেছেন। তবে দেশে ফেরার বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ভারতের মহারাষ্ট্রের পুণেতে একটি ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই তরুণীর মরদেহ।
মৃত তরুণীর নাম মুগ্ধা দেশমুখ। তিনি মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসিন্দা। গত জুলাইয়ে এমবিএ পড়তে লন্ডনে গিয়েছিলেন মুগ্ধা। পরিবারের ধারণা ছিল, তিনি সেখানেই রয়েছেন। কিন্তু পরিবারের অজান্তে প্রায় দুই মাস আগে ভারতে ফিরে পুণের গাহুঞ্জে এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ২৩ অক্টোবর মুগ্ধার সঙ্গে তাদের শেষবার কথা হয়। পরদিন ২৪ অক্টোবর তার মা ফোন করলে সেটি বন্ধ পান। পরে লন্ডনে থাকা মেয়ের এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। ওই বন্ধু জানান, ২২ অক্টোবর মুগ্ধার সঙ্গে সর্বশেষ বার্তা বিনিময় হয়েছিল তার।
এরপর মুগ্ধার খোঁজে লন্ডনে তার ঠিকানায় যান ওই বন্ধু। সেখানে তাকে না পেয়ে পুলিশের কাছে নিখোঁজের অভিযোগ করেন। তদন্তে লন্ডন পুলিশ জানায়, মুগ্ধা গত আগস্টের শেষ দিকে দেশটি ছেড়ে গেছেন।
এদিকে মুগ্ধার বাবা তার ব্যাংক হিসাবের লেনদেন পরীক্ষা করে দেখেন, ৮ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে পুণের গাহুঞ্জে এলাকায় খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে একাধিক লেনদেন হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানালে ওই ঠিকানায় গিয়ে একটি আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে মুগ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত এপ্রিলে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন মুগ্ধা। তবে সেখানে থাকতে শুরু করেন আগস্টে। কেন দেশে ফেরার কথা গোপন করেছিলেন এবং ব্যাংক হিসাবের লেনদেনগুলো তিনিই করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
জা.অর্থনীতি/এসআই
