কসবায় ১০ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ
প্রতীকী ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ভুক্তভোগী ওই শিশুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

এর আগে এ ঘটনায় রোববার সকালে শিশুটির মা বাদী হয়ে কসবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আসামি করা হয়েছে উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুড়াবাড়ী গ্রামের মো. ইয়াছিন মিয়াকে (৫০)। সে ওই গ্রামের গ্রামের মৃত মনতাজ মিয়ার ছেলে। 

মামলা ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ী গ্রামের বাজারে সয়াবিন তেল আনতে যায় শিশুটি। বাজার থেকে তেল নিয়ে ফেরার পথে একই এলাকার ফার্নিচার দোকানের মালিক মো. ইয়াসিন মিয়া শিশুটির হাত এবং মুখ চেপে ধরে তার দোকানে নিয়ে যায়। দোকানের ভিতর নিয়ে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এ সময় চিৎকার চেঁচামেচি করলে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে শিশুটির হাতে ২০ টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেয়। পরে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে সবকিছু খুলে বলে।

বিষয়টি জানাজানির পর ভুক্তভোগী শিশুটির বাড়ির লোকজন গ্রামের সাহেব সর্দারদের এবং অভিযুক্ত ইয়াসিনের বংশের সাহেব সর্দারদের জানায়। 

শিশুর বাবা জানান, ঘটনার পর থেকে বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসা করার জন্য গ্রামের সাহেব সর্দারগন আশ্বাস দেয়। পরে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে মিটিংয়ের আয়োজন করে। কিন্তু বিচারে অভিযুক্তকে কেবল ক্ষমা চাইতে বলা হয়। তাই ন্যায়বিচারের আশায় থানায় মামলা করেছি। আমাকে এখন হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে।  আমি এর কঠিন বিচার চাই। 

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, উপজেলার হাতুরবাড়ীতে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। 

—জা. অর্থনীতি/এনজে