লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ইউসুফ আলী উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাঞ্চনশ্বর কানার বাজার এলাকার মৃত আছমত আলীর ছেলে। তিনি রংপুর নিউ রুপসী বাংলা ক্লিনিকের পরিচালক।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের সহপাঠীর ধর্ষকের ফাঁসি চাই। ধর্ষণের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় আমরা সর্বত্রই অনিরাপদ।
এর আগে লালমনিরহাট শহর ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে ধর্ষক ইউসুফ আলীর ফাঁসির দাবিতে মিছিল নিয়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। সেখানে তারা লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে ধর্ষকের ফাঁসির দাবি জানায়।
অভিযুক্ত ধর্ষক ইউসুফ আলীর কুশপুত্তিলিকা দাহ করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ শেষে একই দাবিতে পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা। ঘণ্টাব্যাপী অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে।
পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা জানান, অতি দ্রুত দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করে ধর্ষক ইউসুফ আলীর ফাঁসি কার্যকর করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বাড়িতে একা থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ইউসুফ আলী ওই বাড়িতে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর মা বাদি হয়ে গত ২১ আগস্ট কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে অভিযুক্ত ইউসুফ আলীকে ২৪ আগস্ট গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তার অভিযুক্ত ইউসুফ আলীর লোকজন বাদির পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছে। অভিযুক্তের হুমকিতে নিরাপত্তার স্বার্থে আদালতে যেতে পারেননি বাদি। এ সুযোগে গ্রেপ্তার ধর্ষককে জামিনে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। আবার দিন ধার্য হলে বাদিকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
একদিকে হুমকি অন্যদিকে ধর্ষককে জামিনে মুক্ত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর সহপাঠীরা।
অবরোধ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর সহপাঠী, পরিবারের সদস্য ও অভিভাবকরা। তারা ধর্ষক ইউসুফ আলীকে দ্রুত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি জানান। একই সাথে মেয়ে জন্য সর্বত্র নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
—জা. অর্থনীতি/এনজে
