ক্যাম্পাস ডেস্ক: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নানা আয়োজনে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি উদ্যোগে ‘নজরুল বর্ষ—২০২৬’ উদযাপিত হয়েছে।
‘নজরুল বর্ষ—২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে প্রথম দিনে ছিল সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা একক নৃত্য, নজরুল গীতি, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা ও অভিনয় এবং দ্বিতীয় দিনে সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে অনুষ্ঠিত সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান।
সেমিনারে ‘চট্টগ্রামে নজরুল আগমনের শতবর্ষপূর্তি: সৃষ্টিশীলতার অবিস্মরণীয় অধ্যায়’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন ফারুক।
সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি কো এন্ড এক্সট্রা কারিকুলার কমিটি সদস্য সচিব সাইফুল্লাহ্ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির কো—কনভেনার ও ড. তাসনিমা জান্নাত ও সদস্য রুবেল দাশ, ফার্মেসি বিভাগের প্রধান আইরিন সুলতানা, ইংরেজি বিভাগের প্রধান আরমান হোসেন, সিএসই বিভাগের প্রধান তানজিয়া চৌধুরী ও ইসলামিক শিক্ষা বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ মহিউদ্দিন সহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন ফারুক মূল আলোচনায় বলেন, নজরুল এক অজর প্রতিভাধর বিস্ময় পুরুষ। সমকালোচকদের বিচারেও তিনি সময়—সমকাল—সমকালীন কাব্যযাত্রার সকল অভিযাত্রীর মধ্যে প্রাগ্রসরজন। নজরুলের সৃষ্টিকর্মের এক দেদীপ্যমান উৎস চট্টগ্রাম। কাব্যজীবনে একটা বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে তার চট্টগ্রাম সফর। নজরুল তার অনুজপ্রতিম হাবীবুল্লাহ বাহারের উদ্যোগে ও আমন্ত্রণে ১৯২৬ সালের শেষাশেষি ও ১৯২৯ সালের গোড়ার দিকে পরপর দু’বার চট্টগ্রাম পদার্পণ করেন। এ সফরের মধুময় ফল ‘সিন্ধু হিন্দোল’ ও ‘চক্রবাক’ কাব্যগ্রন্থে সন্নিবেশিত কবির কয়েকটি শ্রেষ্ঠ কবিতা। এ সময় তিনি কাজী নজরুল ইসলামের চট্টগ্রাম সফরের প্রেক্ষাপট, তাঁর সাহিত্যকর্ম ও দর্শন বিশদভাবে আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য(ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল চর্চার প্রসার এবং জাতীয় কবির আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করার অনুপ্রেরণা জোগাতেই এ আয়োজন করা হয়। কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা। নজরুলের সৃষ্টিকর্ম কেবল সাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তা মানুষকে অন্যায়—অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হতে অনুপ্রেরণা জোগায়।
সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় নজরুল গীতিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন ইংরেজি বিভাগের পিংকি দাশ এবং দ্বিতীয় হয় একই বিভাগের শ্রাবন্তী দাশ, আবৃত্তিতে পুরকৌশল বিভাগের তন্নী ধর প্রথম এবং ইইই বিভাগের সৌমেন দাশ দ্বিতীয়, একক অভিনয়ে ইংরেজি বিভাগের সুমাইয়া আকতার প্রথম এবং ফাহমিদা হক ভাবনা দ্বিতীয়, নৃত্যে এইচটিএম এর অরিত্র বিশ্বাস প্রথম এবং ইংরেজি বিভাগের নক্ষত্র দাশগুপ্ত অর্পিতা দ্বিতীয়, উপস্থিত বক্তৃতায় ইংরেজি বিভাগের জারিন তাবাসসুম প্রথম এবং ফার্মেসি বিভাগের সাদিয়া ইসলাম দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। বিজয়ীরা পরবতীর্তে জাতীয় পযার্য়ে অংশ্রগ্রহণ করবেন।
—জা.অর্থনীতি/এনজে