বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দামে লাগাম টানা যাচ্ছে না। গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম রেকর্ড ২৫২ টাকা বাড়ানোর পরও কিনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। তবে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে এ গ্যাস। এর মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
চলতি মাসে বেসরকারি কোম্পানিগুলো এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দিয়েছে বিইআরসিতে। পাশাপাশি এলপিজি বিতরণকারী বিভিন্ন ডিলাররাও তাদের চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীন এলপি গ্যাস লিমিটেড সরকারি এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দিয়েছে। ২৯ অক্টোবর এসব প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য নাম তালিকাভুক্তি ও মতামত জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল গতকাল (২৭ অক্টোবর)। এর আগে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির বিষয়ে ৬ অক্টোবর বিইআরসি একটি চিঠি দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতিকে। সমিতি বলছে, বাড়তি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ার কারণে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি সিলিন্ডারে তাদের কমিশন বাড়াতে হবে।
দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে আমদানিকারক কোম্পানিগুলো, যারা অপারেটর হিসেবে পরিচিত। ১৮ অক্টোবর জমা দেওয়া প্রস্তাবে তারা বলছে, প্রতি মাসে সমন্বয়ের সময় সৌদি কার্গো মূল্য, প্রিমিয়াম (জাহাজভাড়া, বিমা), ডলারের দর ও জ্বালানি তেলের দাম ধরে নতুন দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে অন্যান্য খরচও বেড়েছে; তাই দাম বাড়াতে হবে। প্রস্তাবে এলপিজি অপারেটস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) চিঠিতে বলা হয়, বিইআরসি তার মূল্য গণনায় অন্যান্য চার্জকে ফিস্কড এবং ভেরিএ্যাবল দুই ভাগে ভাগ করেছে। ফিস্কড অংশে ল্যাণ্ডিং চার্জ, লেভি চার্জ, রিভার ডিউজ, কাস্টম সার্ভে এবং পোর্ট চার্জ প্রতি মেট্রিক টন ৩০০ টাকা ধরে গণনা করে যেখানে প্রকৃত খরচ হয় ৩৮০ টাকা। অন্যান্য চার্জের ভেরিএ্যাবল অংশে এলসি চার্জ, ইন্স্যুরেন্স চার্জ, সিএন্ডএফ কমিশন, ডিসপোর্ট ইন্সপেকশন চার্জ মোট সিএফআর মূল্যের উপর শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ হারে চার্জ গণনা করে যেখানে প্রকৃতপক্ষে খরচ হয় দুই দশমিক ১ শতাংশ।
ফলশ্রুতিতে বিইআরসির মূল্য নির্ধারণে প্রতি ১২ কেজিতে অন্যান্য খরচ ধরা হয় ৮ দশমিক ৮ টাকা যেখানে অপারেটদের প্রকৃত খরচ ২৫ দশমিক ১ টাকা এবং প্রতি ১২ কেজি রিফিলের জন্য অপারেটরদের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ১৬ দশমিক ৫ টাকা। এছাড়া বিইআরসি পূর্ববর্তী মাসের এভারেজ সেটেলমেন্ট রেট নিয়ে চলতি মাসের মূল্য নির্ধারণ করে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পাবার কারণে প্রতি মাসে অপারেটরদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
ম্যানুফ্যাকচারিং ও ফ্যাক্টরি ওভারহেড হিসেবে বিইআরসি খরচ ধার্য করেছে ২৩ দশমিক ৪৩ টাকা, যা প্রকৃতপক্ষে প্রতি ১২ কেজি রিফিলের জন্য ৪২ টাকা। বিতরণ এবং পরিবহন (প্ল্যান্ট টু প্ল্যান্ট এলপিজি ট্রান্সফার এবং এলপিজি সিলিন্ডার ডিস্ট্রিবিউশন) খরচ প্রতি ১২ কেজির রিফিলের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ দশমিক ০৯ টাকা (ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি সমন্বয়ের পর)। বর্তমান পরিস্থিতিতে যা শুধু অবাস্তবই নয় অসম্ভবও বটে। প্রকৃত হিসেবে এই খরচ নিম্নপক্ষে ৪৫ থেকে ৬০ টাকা।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিইআরসির মূল্য নির্ধারণ সূত্রে অবচয় ধরেছে ৫৭ দশমিক ৯৮ টাকা, যা প্রকৃত হিসেবে ৬৩ টাকা বা তার বেশি। বিআরসি তাদের মূল্য নির্ধারণ সূত্রে ২০২১ সালের ফাইনান্সিয়াল চার্জকে এখনও পর্যন্ত কার্যরত রেখেছে এবং যেখানে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে ফিনান্সিয়াল চার্জের অনেক খাতেই পরিবর্তন এসেছে।
এদিকে বিইআরসি তার মূল্য গণনায় প্রতি ১২ কেজির জন্য অপারেটর প্রফিট মার্জিন এবং করপোরেট ট্যাক্স ধরছে ৩৩ টাকা যা অক্টোবর, ২০২৩ মাসের অপারেটর মূল্যের ২ দশমিক ৬ শতাংশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এলপিজির মতো বিশাল বিনিয়োগনির্ভর কোম্পানির জন্য তা খুবই নগণ্য এবং পরিচালকদেরকে এই ব্যবসা পরিচালনা এবং বিনিয়োগ করতে অনুৎসাহিত করবে। এ অবস্থায় কোম্পানির পরিচালনাকে উৎসাহিত করার জন্য অপারেটর প্রফিট মার্জিন ১০ শতাংশ করার জন্য অনুরোধ করা হল। এতে ১২ কেজিতে মুনাফা দাঁড়াবে প্রায় ১৪০ টাকা।
অন্যদিকে ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ ৫০ টাকা এবং রিটেইলার চার্জ ৪৫ টাকা, যা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এবং মূল্যস্ফীতির কারণে ধার্যকৃত টাকা দিয়ে ডিস্ট্রিবিউটরের এবং রিটেইলার ব্যবসা পরিচালনা করে টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য তাদের বিইআরসির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে এলপিজি বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই ডিস্ট্রিবিউটর এবং রিটেইলার চার্জ বৃদ্ধি করার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে।
১২ কেজির সিলিন্ডারে রিটেইলার চার্জ ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যয় সমন্বয় করে সব মিলিয়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম ২ হাজার ১৩৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান সরকারি দর ১ হাজার ৮৩৭ থেকে প্রতি সিলিন্ডারে আরও ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবে যা চায় অপারেটরগুলো
ওমেরা পেট্রোলিয়ামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিম চৌধুরী ১৩ অক্টোবর তাদের প্রস্তাব জমা দেন। এতে লোয়াবের ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবরের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাবসহ একটি চিঠি এবং চলতি অক্টোবরের সৌদি আরামকোর চুক্তিমূল্যের ভিত্তিতে তৈরি নতুন হিসাব সংযুক্ত করা হয়েছে।
লোয়াবের ওই চিঠিতে অপারেটরগুলোর মুনাফার হার ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। আর ওমেরার প্রস্তাবে প্রতি কেজি এলপিজি মজুদ ও বোতলজাতকরণ খরচ ১১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ টাকা ২৫ পয়সা করার কথা বলেছে। অন্যান্য ব্যয়, মুনাফা ও কমিশন বাড়ানোর হিসাবসহ ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার দাবি করা হয়েছে।
ওমেরা নতুন হিসাবে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে অপারেটরের মুনাফা ও কোম্পানি কর বাবদ প্রায় ১৪০ টাকা বেশি প্রস্তাব করেছে। ঋণ ও অর্থায়ন ব্যয় বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৮৭ টাকা। এছাড়া আমদানির অন্যান্য খরচ বাড়িয়ে প্রায় ১১ থেকে ৩৫ টাকা, ব্যাংক সংক্রান্ত খরচ ৮ থেকে ৩০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবে পরিবেশকের কমিশন ৫০ টাকা অপরিবর্তিত রেখে খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ থেকে ৮০ টাকা করা হয়েছে। কয়েকটি খাতে ব্যয় কম দেখিয়ে সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ টাকা দাম বাড়ানোর হিসাব দিয়েছে কোম্পানিটি। এতে দাবি করা হয়েছে, কারখানা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্য অপারেটরদের ব্যয় প্রায় ৪৭৮ টাকা। অথচ বিইআরসির হিসাবে এ ব্যয় ২১২ টাকা বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগে মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ এলপিজি প্রথমে ৯ মার্চ মূল্য নির্ধারণের বিভিন্ন খরচ সংশোধনের আবেদন করে। পরে ১৫ অক্টোবর বিইআরসির চাহিদা অনুযায়ী আরও তথ্য জমা দেয়। সবশেষ আবেদনে কোম্পানিটি মজুদ ও বোতলজাতকরণ খরচ প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা থেকে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশকের কমিশন প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে ১০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সা করার দাবি জানিয়েছে।
মেঘনার দাবি, ব্যাংকঋণের সুদ বেড়ে বছরে প্রায় ১৫ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি সিলিন্ডারের নিরাপত্তা পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। নিজেদের বিনিয়োগের ওপর বছরে ২০ শতাংশ মুনাফা বিবেচনার প্রস্তাবও দিয়েছে কোম্পানিটি। অন্যদিকে ডেল্টা এলপিজি ১৫ মার্চের আবেদনে মজুদ ও বোতলজাতকরণ খরচ প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করার দাবি জানিয়েছে। কোম্পানিটি পরিবেশকের কমিশন প্রতি কেজিতে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ১০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের দাবি, আমদানি, পরিবহন ও ঋণের খরচ বাড়ায় বর্তমান দামে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তুলনামূলক কম খরচের প্রস্তাব দিয়েছে পেট্রোম্যাক্স এলপিজি। ১৫ অক্টোবরের আবেদনে কোম্পানিটি মজুদ ও বোতলজাতকরণ খরচ প্রতি কেজিতে ১৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণের আবেদন করেছে। পাশাপাশি প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৫০ পয়সা টার্নওভার কর এবং ৮ টাকা ১২ পয়সা অর্থায়ন ব্যয় বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছে। টার্নওভার কর হল ব্যবসার মোট আয়ের ওপর ধার্য করা কর। ব্যবসায় লাভ না হলেও এই কর দিতে হয় বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
পেট্রোম্যাক্স পরিবেশকের কমিশন প্রতি কেজিতে ৮ টাকা ৩৪ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৭ টাকা ৫০ পয়সা করার দাবি জানিয়েছে। অটোগ্যাস মজুদ খরচ প্রতি কেজিতে ৩ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ৯ টাকা ৭৫ পয়সা করার আবেদনও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি সরকারি এলপি গ্যাস লিমিটেডও সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২০৫ টাকা ৪২ পয়সা করার আবেদন করেছে। ফেব্রুয়ারির ওই আবেদনে বিদ্যমান দাম ৮২৫ টাকা দেখানো হলেও অক্টোবরে বিইআরসির নির্ধারিত দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা।
এদিকে কোম্পানিগুলো এলপিজির আমদানি খরচ বাড়ার কথা বললেও জাহাজভাড়া ও ট্রেডারের প্রিমিয়াম সেপ্টেম্বরে প্রতি টনে ১৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে অক্টোবরে ২৫০ ডলার করেছে বিইআরসি। একই সময়ে সৌদি আরামকোর গড় চুক্তিমূল্য ৬৪৭ দশমিক ৭৫ থেকে বেড়ে ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার হয়েছে। ওমেরার নতুন প্রস্তাবে অক্টোবরের এ দুটি হার অপরিবর্তিত রয়েছে।
কমিশন তিনগুণ চান পরিবেশকরা
অপারেটরগুলোর পাশাপাশি এলপিজি পরিবেশকরাও কমিশন বাড়ানোর আবেদন করেছেন। তাহের এন্টারপ্রাইজ, মা এন্টারপ্রাইজ, জামাল এজেন্সি ও উজ্জ্বল ট্রেডার্সের আবেদনে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে পরিবেশকের কমিশন ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ থেকে ৭০ টাকা করার দাবি রয়েছে। তাদের বক্তব্য, পরিবহন, জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান কমিশনে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, আমদানি কমেনি, তাই সরবরাহ সংকট হওয়ার কথা নয়। যারা আমদানি করতে পারছে না, তাদের ঋণপত্র (এলসি) খোলা কিছুটা সহজ করতে জ্বালানি বিভাগে চিঠি দিয়েছে বিইআরসি। জ্বালানি বিভাগ ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে, এতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অন্য সিলিন্ডার কেনা, দাম ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে শুনানিতে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর কমিশন সিদ্ধান্ত জানাবে।