ড. ইউনূসকে জড়িয়ে ধরা কে এই নারী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সফরকালে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কেরি কেনেডি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কেনেডি পরিবারের এই সদস্য ড. ইউনূসকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেন এবং সেই বিশেষ মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন।

ছবিতে তিনি ড. ইউনূসকে নিজের ‘আদর্শ ও প্রিয় বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করলে নতুন করে আলোচনায় আসেন এই আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী।

কেরি কেনেডি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী, প্রখ্যাত লেখক এবং সুপরিচিত মানবাধিকারকর্মী। তিনি দেশটির সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সিনেটর রবার্ট এফ. কেনেডির সন্তান এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির ভাতিজি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

১৯৮১ সালে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হয়ে কাজ শুরু করার মাধ্যমে মানবাধিকার অঙ্গনে তাঁর পথচলা শুরু হয়। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রবার্ট অ্যান্ড এথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস’-এর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। শিশুশ্রম, নারীর অধিকার, গুম, আদিবাসীদের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় শতাদিকেরও বেশি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন এই মানবিক ব্যক্তিত্ব।

একই সঙ্গে লেখক হিসেবেও বিশ্বজুড়ে কেরি কেনেডির বেশ সুনাম রয়েছে। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘স্পিক ট্রুথ টু পাওয়ার’, ‘বিং ক্যাথোলিক নাও’ এবং বাবাকে নিয়ে লেখা ‘রবার্ট এফ. কেনেডি: রিপলস অব হোপ’। আন্তর্জাতিক মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের কংগ্রেসের বিশেষ সম্মাননাসহ বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও কেরি কেনেডির মধ্যকার এই ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিনের সামাজিক ন্যায়বিচারকেন্দ্রিক যোগাযোগের সুফল। নিউইয়র্কের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি কেবল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল না, বরং তা তাঁদের দীর্ঘ দিনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের এক অনন্য প্রতিফলন হিসেবে প্রকাশ্যে এসেছে।

তথ্যসূত্র: রবার্ট অ্যান্ড এথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস অফিসিয়াল পোর্টাল ও ন্যাশনাল আর্কাইভস। 

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ