বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন করে সামরিক অভিযানের আশঙ্কার মুখে বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার শনিবারের (৩১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে পূর্বে পরিচালিত হামলার লক্ষ্যবস্তুর তুলনায় এবার আরও দূরবর্তী এবং বিস্তৃত পরিসরে আঘাত হানা হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি নেতৃত্বের তাৎক্ষণিক ও কার্যকরী পদক্ষেপের নির্দেশনা নির্দেশ করছে তারা আগের চেয়ে বড় পরিসরে সামরিক জবাবের পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে ইতোমধ্যে ৭ শতাধিক সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত বেসামরিক নানা অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে সম্ভাব্য এ অভিযানে শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত আমেরিকান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপরও হামলা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।

আলজাজিরা আরও জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরাসরি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি পুনরায় কোনো হামলার শিকার হয়, তবে সেই যুদ্ধের সমাপ্তি কখন ও কীভাবে ঘটবে—তা তেহরানই ঠিক করবে। শীর্ষ নেতার এমন বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তেহরানের ওপর আর কোনো আগ্রাসন চালানো হলে যেকোনো ধরনের কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যাবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই নতুন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। তবে সামরিক উত্তেজনা প্রশমন এবং একটি সম্ভাব্য সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে উপসাগরীয় দেশ কাতার বর্তমানে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জেএ/অভি