বরিশাল প্রতিনিধি: সাত মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যুসংবাদ যেন মুহূর্তেই নিভিয়ে দিল এক প্রবাসী বাবার জীবনপ্রদীপ। আদরের সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে দুবাইয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন বাবা আরিয়ান (৩৫)। একই দিনে মারা গেছেন শিশুটির মায়ের দাদিও।
একদিনে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের আশা গ্রামে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঘটে যাওয়া এ হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকার পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশা গ্রামের বাসিন্দা আরিয়ান দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন। দেশে তার সাত মাস বয়সী ছেলে আদর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিল। শনিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। সন্তানের মৃত্যুসংবাদ পৌঁছানোর পর শোকে ভেঙে পড়েন প্রবাসী বাবা।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একই দিন বিকেলে দুবাইয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
এদিকে, একই দিনে মারা যান শিশু আদরের মায়ের দাদিও। ফলে একদিনেই পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা। এমন মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেশী মো. কবির মাঝি বলেন, “এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। পরিবারটির এই শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”
নিহত শিশু আদরের নানা মো. জসিম হাজারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আদর আমার নাতি, আরিয়ান আমার জামাতা। একই দিনে মারা যাওয়া বৃদ্ধা আমার শাশুড়ি। একদিনে তিনজন স্বজনকে হারিয়ে আমি দিশেহারা। এ শোক কীভাবে সইব, বুঝতে পারছি না।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বৃহত্তর উলানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম চৌধুরী মিটন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
একদিকে সাত মাসের শিশুর নিথর দেহ, অন্যদিকে প্রবাসে বাবার আকস্মিক মৃত্যু—এর সঙ্গে পরিবারের আরেক প্রবীণ সদস্যের বিদায়। এমন শোকাবহ পরিস্থিতিতে স্বজনদের কান্না যেন থামছেই না। একদিনে তিনটি মৃত্যুতে পুরো আশা গ্রামজুড়ে বিরাজ করছে শোকের আবহ।
—জা. অর্থনীতি/এনজে
