নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী দেশের ১৭টি স্টেশনের মধ্যে ১৬টিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। তবে একই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গত ১ নভেম্বর বর্ধিত বেতন পরিশোধের নির্দেশনা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা পাননি তারা। এ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে কর্মীদের মধ্যে। বেতন না পাওয়ার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তার অবহেলাকে দায়ী করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নুর হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ সময় তারা নিজেদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. হাকিম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত বেতন পেলেও শাহ আমানত বিমানবন্দরের কর্মীরা এখনো তা পাননি। এতে কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
কর্মচারীদের অভিযোগ, বিমানবন্দরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কায়সার মোহাইমেনের অবহেলার কারণে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাসময়ে বেবিচকের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মচারী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা কায়সার মোহাইমেন বলেন, কর্মচারীদের ৩১৯টি ফাইল সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০টি অনুমোদন হয়েছে। বাকি ১৯টি নথিও দু-এক দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সবাই একসঙ্গে বর্ধিত বেতন পাবেন।
তিনি বলেন, অন্য বিমানবন্দরগুলোতে লোকবল কম থাকায় দ্রুত অনুমোদন পাওয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু শাহ আমানত বিমানবন্দরে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সবার নথি একসঙ্গে অনুমোদন হয়নি। এ কারণে পরিচালক সবার অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পর একসঙ্গে বর্ধিত বেতন ছাড়ের নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নুর হোসেন বলেন, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
—জা.অর্থনীতি/আরএস
