মেহেরপুর প্রতিনিধি: সীমান্তের কাঁটাতার দুটো দেশকে আলাদা করে রাখলেও, রক্তের টান আর স্নেহের বাঁধন যে কোনো কাঁটাতার দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তে মিললো তার আরও এক হৃদয়স্পর্শী প্রমাণ।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রধান ১০৯ নম্বর পিলারের শূন্যরেখায় ঘটলো এক মানবিক ঘটনা। ওপারে মারা যাওয়া বৃদ্ধা মায়ের নিথর দেহ সীমান্ত রেখায় এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দেওয়া হলো এপারে থাকা বাংলাদেশি মেয়ে ও তার পরিবারকে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার মালিয়াপোতা পোস্টের গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা. জায়রা (৭০) বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মায়ের মৃত্যুর খবর সীমান্ত পেরিয়ে পৌঁছায় মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভবানিপুর গ্রামে। খবরটি শোনামাত্র মৃত বৃদ্ধার মেয়ে হাফিজা খাতুনের মন আর কোনো বাধা মানতে চায়নি।
শেষবারের মতো মায়ের মুখটি একটু দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন তারা। কিন্তু নিয়মের বেড়াজালে পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে দ্রুত ভারতে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। উপায়ান্তর না দেখে আকুল আবেদন জানানো হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে। স্বজনদের এমন আবেগ ও আকুতিতে বিজিবি দ্রুত বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সাথে যোগাযোগ করে।
বিজিবির মানবিক আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দেয় বিএসএফও। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ে সীমান্ত রেখায় মরদেহ এনে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা বিওপির বিজিবি টহল কমান্ডার হাবিলদার শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি বিজিবি দল এবং ভারতের বিএসএফের পক্ষে ইন্সপেক্টর এস কে রায়ের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বিএসএফ দল ১০৯ নম্বর মেইন পিলারের কাছে শূন্যরেখায় উপস্থিত হয়। সেখানে কড়া নিরাপত্তার মাঝেই ভারতের সীমান্ত থেকে মায়ের নিথর দেহটি শূন্যরেখায় পৌঁছালে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এপারে থাকা স্বজনেরা।
প্রায় ২০ মিনিট অবস্থানের পর আবেগঘন পরিবেশে স্বজনরা বিদায় জানান জায়রা খাতুনকে। এরপর মরদেহটি আবারও ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
সীমান্ত ও আইনি জটিলতার ঊর্ধ্বে উঠে এমন মানবিক সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিজিবি ও বিএসএফের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
—জা. অর্থনীতি/এনজে