ফ্ল্যাট কিনলে কি মানুষ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হারায়?
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

"নিজের একটা মাথার ওপর ছাদ নাকি বয়সের আগেই আর্থিক স্বাধীনতা? একটা ভুল সিদ্ধান্তের ইএমআই আপনাকে ২০ বছরের জন্য করপোরেট ক্রীতদাস বানিয়ে রাখতে পারে!"

নিজের একটা বাড়ি থাকা আমাদের সমাজে সাফল্য ও স্থায়িত্বের সবচেয়ে বড় প্রতীক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, জীবনের শুরুতেই কি এই স্বপ্ন পূরণ করা উচিত? নাকি তার আগে ফিন্যান্সিয়াল ফ্রিডম বা আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করা বেশি জরুরি? একদিকে সমাজের চাপ ও আবেগের জায়গা-নিজের বাড়ি, অন্যদিকে জীবনকে নিজের শর্তে বাঁচার চাবিকাঠি-আর্থিক স্বাধীনতা। কোনটা আগে বেছে নেওয়া উচিত?

প্রথমে আসা যাক নিজের বাড়ির স্বপ্ণে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই বা ৩০-৩৫ বছর বয়সে যখন আপনি লোন নিয়ে ফ্ল্যাট কেনেন, তখন থেকে আপনার জীবনের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ব্যাংকের হাতে। প্রতি মাসের এক তারিখ হলেই বড় অঙ্কের ইএমআই গুনতে হয়। এর ফলে ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও আপনাকে চাকরি আঁকড়ে ধরে রাখতে হয়, আপনি নতুন কোনো ব্যবসা বা স্টার্টআপ শুরু করার ঝুঁকি নিতে পারেন না। নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণ হয় ঠিকই, কিন্তু আর্থিক স্বাধীনতার দরজায় পড়ে যায় স্থায়ী তালা।

এবার দেখা যাক আর্থিক স্বাধীনতা কেন আগে প্রয়োজন। ফিন্যান্সিয়াল ফ্রিডম মানে কেবল কোটি কোটি টাকা থাকা নয়, এর অর্থ হলো এমন একটি ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিও বা প্যাসিভ ইনকাম তৈরি করা যা দিয়ে আপনার মাসিক সংসার খরচ অনায়াসে চলে যায়। যদি আপনি ক্যারিয়ারের প্রথম ১০-১৫ বছর ইএমআই-এর চাকা না ঘুরিয়ে সেই টাকা সঠিক ইকুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড বা ব্যবসায় ইনভেস্ট করেন, তবে কম্পাউন্ডিংয়ের শক্তিতে কম বয়সেই আপনার কাছে বিরাট ফান্ড তৈরি হয়ে যাবে।

একবার আর্থিক স্বাধীনতা অর্জিত হয়ে গেলে বা আপনার ইনভেস্টমেন্ট থেকে আসা প্যাসিভ ইনকাম শক্তিশালী হয়ে গেলে, তখন বাড়ি কেনা অত্যন্ত সহজ ও চাপমুক্ত হয়ে যায়। তখন আপনাকে কোনো ব্যাংকের কাছে নিজেকে বন্ধক রাখতে হয় না। আপনি হয়তো লোনের সাহায্য ছাড়াই বা খুব অল্প ইএমআই-তে স্বপ্নের বাড়ি কিনতে পারবেন-এমনকি নিজের জমানো টাকার ডিভিডেন্ড বা রিটার্ন দিয়েই আপনার বাড়ির কিস্তি মিটে যাবে।

সুতরাং, সিদ্ধান্ত খুব স্পষ্ট। ক্যারিয়ারের শুরুতে আবেগের বশে ২০ বছরের ইএমআই-এর বোঝা কাঁধে তুলে নিয়ে নিজেকে আটকে ফেলবেন না। আগে নিজের স্কিল বাড়ান, সঠিক জায়গায় টাকা ইনভেস্ট করুন এবং আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করুন। কারণ, স্বাধীনতা থাকলে নিজের বাড়ি যেকোনো সময় বানানো সম্ভব, কিন্তু প্রপার্টি কিনে ফেললে হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতা আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না।

বাড়ি কিনবেন, নাকি স্বাধীন থাকবেন?

৩০ বছরেই নিজের ফ্ল্যাটের মালিক হওয়া বড় কথা, নাকি ৪০ বছরে রিটায়ার করা?

"১. ইএমআই-এর দাসত্ব-শুরুতেই বাড়ি কিনলে ২০ বছর চাকরির গোলামি করতে হবে, কোনো রিস্ক নেওয়া যাবে না।"

"২. ইনভেস্টমেন্টের জাদু-আগে টাকা ইনভেস্ট করে ফিন্যান্সিয়াল ফ্রিডম আনলে সেই রিটার্ন দিয়েই পরে বাড়ি কেনা যায়।"

"৩. চূড়ান্ত সত্য-আগে নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করুন, স্বপ্নের বাড়ি তখন আপনার কোনো আর্থিক বোঝাই মনে হবে না!"  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি