গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ফারুক শরীফ নামের এক অযোগ্য ব্যক্তিকে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে টিসিবির ডিলার হিসেবে পুনঃনবায়ন করার অভিযোগ উঠেছে।
নবায়ন হওয়া ওই ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের নাম "মেসার্স ফারুক ট্রেডার্স"।
গত ১২ জুলাই এই ফারুক ট্রেডার্সের অবৈধ পুনঃনবায়নের প্রতিবাদে এবং পুরানো ডিলার বহালের দাবিতে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলাসহ জেলার সকল টিসিবির ডিলাররা লিখিত অভিযোগ, মানবন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফারুক শরীফ ২০২২-২৩ অর্থবছরে সর্বপ্রথম বানোয়াট কাগজপত্র তৈরি করে মিথ্যা ও অসত্য তথ্য সরবরাহ করে বড় অংকের ঘুষের বিনিময়ে টিসিবির ডিলার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। বর্তমানেও তিনি পুনঃনবায়নের ক্ষেত্রে একই ধরনের বানোয়াট কাগজপত্র তৈরি ও মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে সরকারি দপ্তরকে ফাঁকি দিয়েছেন।
টিসিবির সদ্য সাবেক ডিলার "মেসার্স দীপক স্টোর"-এর স্বত্ত্বাধিকারী দীপক কুমার সাহা, "মেসার্স বেবী স্টোর" স্বত্ত্বাধিকারী অমল সাহা, "জুয়েল মুদি স্টোর" এর স্বত্ত্বাধিকারী সোহেল মিয়াসহ সদরের অধিকাংশ টিসিবি ডিলাররা সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সকল ধরনের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের প্রতিষ্ঠান ভিজিটের সময় নগদ ২০ হাজার করে টাকা নিয়েছে টিসিবির মাদারীপুর অফিসের সহকারী পরিচালক ও অফিস প্রধান মো. কামরুজ্জামান। তিনি বলেছিলেন আপনাদের গোডাউন, রানিং দোকান ও কাগজপত্র সবই ঠিক আছে, আপনারাই পুনঃনবায়নের যোগ্য। একপর্যায়ে জানতে পারলাম আমাদের প্রতিষ্ঠানকে পুনঃনবায়ন দেওয়া হচ্ছে না। পরে জেনেছি "ফারুক ট্রেডার্স" ও "মেসার্স রিমি এন্টারপ্রাইজ"কে বড় অংকের উৎকোচের বিনিময়ে পুনঃনবায়ন করে দিয়েছেন মো. কামরুজ্জামান স্যার।
তারা আরও জানান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে পুনঃনবায়ন দিয়েছে তাদের মধ্যে "মেসার্স রিমি এন্টারপ্রাইজ"-এর যথাযথ যোগ্যতা থাকলেও "মেসার্স ফারুক ট্রেডার্স"-এর কোন যোগ্যতা ও বৈধতা নেই।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাজারের যে ঠিকানায় ফারুক শরীফ "মেসার্স ফারুক ট্রেডার্স" প্রতিষ্ঠানের নামে টিসিবির লাইসেন্স নিয়েছেন, সেখানে তার কোন দোকান ও গোডাউন পূর্বে কখনো ছিল না এবং বর্তমানেও নেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে নতুন লাইসেন্স নেওয়ার সময় তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাব ও টাকার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে দৃশ্যমান দোকান ও গোডাউন না থাকা সত্ত্বেও টিসিবির লাইসেন্স পেয়েছিলেন।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কৌশিক আহমেদ বলেন, টিসিবির লাইসেন্স পুনঃনবায়নের বিষয়ে আমাদের কোন হাত নেই। নতুন ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। মাদারীপুর টিসিবির সহকারী পরিচালক ও অফিস প্রধান মো. কামরুজ্জামান আমার সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ না করে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পুনঃনবায়ন করা ২ জন ডিলারকে দিয়ে ২১ ইউনিয়নের ও গোপালগঞ্জ পৌরসভায় টিসিবি কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। আমি ডিসি স্যারের সাথে কথা বলে কোন প্রকার অনিয়ম থাকলে টিসিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা সমাধান করার চেষ্টা করবো।
—জা. অর্থনীতি/এনজে