শহরে ভাড়া থেকে গ্রামে নিজের বাড়ি কোন সিদ্ধান্তে ভবিষ্যৎ নিরাপদ?
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: "শহরের ফ্ল্যাট কেনার চড়া ইএমআই দিয়ে জীবনটা শেষ করবেন, নাকি গ্রামে একটা নিজের বাড়ি বানিয়ে শহরে শান্তিতে ভাড়া থাকবেন? একটা ভুল সিদ্ধান্ত আপনার সারাজীবনের উপার্জিত অর্থ শেষ করে দিতে পারে!"

আজকের যুগে মধ্যবিত্তের সবচেয়ে বড় দ্বিমুখী মানসিক লড়াই হলো-নিজের একটা মাথার ওপর ছাদ কোথায় তৈরি করবেন? কর্মসংস্থান ও সন্তানদের পড়াশোনার তাগিদে আমাদের সবাইকে শহরে বাস করতে হয়। কিন্তু শহরের আকাশছোঁয়া ফ্ল্যাটের দাম এবং বছরের পর বছর ইএমআই গোনার ভয় অনেককেই পিছু হটায়। ফলে এই নতুন চিন্তাধারা এখন প্রবল হচ্ছে: শহরে আজীবন ভাড়া থেকে গ্রামে নিজের বাড়ি বানানো কি বেশি নিরাপদ, নাকি এর উল্টোটা?

প্রথমে শহরের ফ্ল্যাট না কিনে গ্রামে বাড়ি বানানোর সুবিধাগুলো দেখা যাক। শহরের একটি ছোট ২-বিএইচকে ফ্ল্যাটের দামে গ্রামে কিন্তু একটি বিশাল জমি নিয়ে বিলাসবহুল বাড়ি বানানো সম্ভব। গ্রামের বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক কম, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন এবং অবসরের পর শান্তিতে থাকার দারুণ এক আশ্রয় তৈরি হয়। একইসঙ্গে শহরে মোটা অঙ্কের কোটি টাকার ইএমআই-এর জালে আটকা পড়ার ভয় থাকে না, যা আপনাকে মানসিক ও আর্থিক দুটো দিক থেকেই বড় স্বাধীনতা দেয়।

কিন্তু এই সিদ্ধান্তের প্রধান নেতিবাচক দিকটি হলো-বর্তমান বাস্তবতা। আপনি জীবনযাপনের সিংহভাগ সময় কাটাচ্ছেন শহরে, যেখানে প্রতি মাসে আপনাকে বড় অঙ্কের ভাড়া গুনতে হচ্ছে। যে টাকাটা ভাড়া হিসেবে বেরিয়ে যাচ্ছে, তা কিন্তু চিরতরে গায়েব-সেখান থেকে কোনো দিন কোনো ক্যাশ ব্যাক বা ইকুইটি তৈরি হচ্ছে না। এদিকে গ্রামে তৈরি করা আপনার স্বপ্নের বাড়িটি বেশিরভাগ সময় খালিই পড়ে থাকছে এবং ব্যবহার না হওয়ার কারণে তার মূল্য বা উপযোগিতা আপনি প্রতিনিয়ত হারাচ্ছেন।

অন্যদিকে যারা শহরে ফ্ল্যাট কেনেন, তাদের শুরুতে টানাপোড়েন হলেও ২০ বা ২৫ বছর পর শহরের মতো প্রাইম লোকেশনে তাদের একটি বিশাল ভ্যালুয়েশনের অ্যাসেট বা সম্পদ তৈরি হয়। কিন্তু গ্রামে বানানো বাড়ির রিসেল ভ্যালু বা পুনর্বিক্রয় মূল্য শহরের তুলনায় অনেকটাই কম বা ধীরগতির। এছাড়া জরুরি মুহূর্তে গ্রামে তাড়াহুড়ো করে ভালো ক্রেতা পাওয়াও বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

তাহলে কোন সিদ্ধান্তটি আপনার ভবিষ্যৎকে শতভাগ নিরাপদ করবে? উত্তরটা নির্ভর করছে আপনার রিটার্নমেন্ট প্ল্যানিংয়ের ওপর। আপনি যদি অবসরের পর শতভাগ গ্রামে ফিরে যেতে চান, তবে শহরের ইএমআই পরিহার করে গ্রামে বাড়ি বানানোই বুদ্ধিমানের কাজ। তবে এর পাশাপাশি শহর থেকে বাঁচানো ইএমআই-এর বাড়তি টাকাটা অবশ্যই শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডে ভালো ইনভেস্টমেন্টে রাখতে হবে, যাতে শহরের বাসা ভাড়ার খরচ সেখান থেকে উঠে আসে। সঠিক ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যানিং থাকলে শহরের ভাড়া আর গ্রামের নিজস্ব বাড়ি-এই ফর্মুলাই হতে পারে সবচেয়ে নিরাপদ।

শহরে ভাড়া গ্রামে নিজের বাড়ি কোন সিদ্ধান্তে ভবিষ্যৎ নিরাপদ?

"শহরে কোটি টাকার ইএমআই না গুনে গ্রামে বাড়ি বানিয়ে শহরে ভাড়া থাকা কি আসলেই বুদ্ধিমানের কাজ?"

"১. মানসিক মুক্তি-শহরের চড়া ইএমআই-এর চাপ থাকবে না, গ্রামে কম খরচে রাজকীয় একটি বাড়ি তৈরি হবে।"

"২. ভাড়ার লোকসান-তবে মনে রাখবেন, শহরে যে বাসা ভাড়া দেবেন সেই টাকা কিন্তু কখনোই আর ফেরত আসবে না।"

"৩. সঠিক কৌশল-যদি শহরে ভাড়া থাকেন, তবে ইএমআই-এর বেঁচে যাওয়া টাকা অন্য কোথাও ইনভেস্ট করে ভবিষ্যৎ নিরাপদ করুন!"  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি