তীব্র বায়ুদূষণে মালয়েশিয়ায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিবেশী ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চল ও পিটভূমির দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছানোয় রাজধানী কুয়ালালামপুরসহ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এই নির্দেশ কার্যকর হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে জানা গেছে। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ধোঁয়াশায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন শহর আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে এবং এর প্রভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা দ্রুত বাড়ছে।

পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় মালয়েশিয়ার শিক্ষামন্ত্রী ফাদলিনা সিদেক চারটি রাজ্য ও দুটি ফেডারেল অঞ্চলের সব স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যাঞ্চলীয় পাহাং রাজ্যের একটি অংশেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান স্থগিত রাখা হয়েছে। অভিভাবকরা যাতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে পারেন, সেজন্য ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত আরও দ্রুত জানানোর আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম এক বার্তায় জানিয়েছেন, বায়ুদূষণ সূচক (এপিআই) ১৫০ বা তার বেশি পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় স্কুল বন্ধ রাখা আবশ্যক।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, চলতি সপ্তাহজুড়ে কুয়ালালামপুরের বাতাস অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল এবং শুক্রবার সকালে শহরটির এপিআই মান দাঁড়ায় প্রায় ১৭০-এ। এর ফলে শুক্রবার সকালে প্রতিবেশী সিঙ্গাপুরের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত শহরের তালিকায় উঠে আসে মালয়েশিয়ার রাজধানী। দেশটির মানদণ্ড অনুযায়ী, এপিআই ১০০-এর ওপরে থাকলে অস্বাস্থ্যকর, ২০০ ছাড়ালে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০ পার হলে তা বিপজ্জনক হিসেবে গণ্য হয়; এমনকি এই সূচক ৫০০ অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার এই দাবানলের ধোঁয়াশার তীব্র প্রভাব পড়েছে নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুরেও। আইকিউএয়ারের তথ্যমতে, সেখানে বায়ুমান সূচক (একিউআই) ২০৫-এ পৌঁছেছে, যা ‘অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত। বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য বড় হুমকি তৈরি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণে না এসে ধোঁয়াশা অব্যাহত থাকায় মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়েই এখন মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
জেএ/অভি