প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিস্তারের কারণে তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) টানা ষষ্ঠ প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ চিপ প্রস্তুতকারক এই প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অসাধারণ ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এলএসইজি স্মার্টএস্টিমেটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার ঘোষিত হতে যাওয়া ফলাফলে টিএসএমসির নিট মুনাফা ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭৪৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন তাইওয়ানিজ ডলার (আনুমানিক ২৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)-এ পৌঁছাতে পারে। গত বছর একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির অর্জিত মুনাফা ছিল ৪৫২ দশমিক ৩ বিলিয়ন তাইওয়ানিজ ডলার।
বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির কাঠামোগত রূপান্তর এবং অ্যাডভান্সড চিপের অবিরাম চাহিদাই এই প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। অ্যাপল ও এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর চিপ সরবরাহে টিএসএমসির একক প্রাধান্য বজায় রাখা এবং ৭ ন্যানোমিটার বা তার চেয়ে ছোট আধুনিক প্রযুক্তি ভালো আয় আশায়, আয়ের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই কোম্পানিটির রাজস্ব আয় ৫৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ৫১১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন তাইওয়ানিজ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) টিএসএমসির মোট পুঞ্জীভূত আয় দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯০ ট্রিলিয়ন তাইওয়ানিজ ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন ডলারের হিসাবে ২০২৬ সাল শেষে সামগ্রিক রাজস্ব বৃদ্ধি ৪০ শতাংশ অতিক্রম করার পূর্বাভাস দিয়ে বার্ষিক আয়ের লক্ষ্যামাত্রাও বাড়িয়ে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি।
চাহিদার প্রবল চাপ সামলাতে প্রতিষ্ঠানটি মূলধনি ব্যয়ের (ক্যাপেক্স) পরিমাণ বাড়িয়ে ৬০ থেকে ৬৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যার বড় একটি অংশ নতুন কারখানা ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হচ্ছে। তাইওয়ানের শেয়ারবাজারেও টিএসএমসির শেয়ারদর এ বছর ইতোমধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টর খাতে দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও উন্নত প্রসেসিং চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে টিএসএমসির অবস্থান অত্যন্ত সুসংহত। সামনের দিনগুলোতে ২০২৭ সালের চিপের নতুন মূল্য নির্ধারণ এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর দিকগুলো নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবারের বিনিয়োগকারী সভায় নতুন ইঙ্গিত পেতে পারেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।