ইবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডাবল ডেকার বাস ‘গোধূলি’তে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে বাংলা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, বিভাগীয় শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের নিচতলার করিডোরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, আজ সকাল ১১টায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রক্টর অফিসে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দের উপস্থিতিতে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মীমাংসা করে প্রক্টর অফিস থেকে নিচে নামার সময় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক আটকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। জড়িতদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। পরবর্তীতে প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা।
আন্দোলনরত আইসিটি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “গতকালের ঘটনার পর উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। আমরা তাদের দাবি মেনে নিয়েছি এবং তারাও আমাদের দাবিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু প্রক্টর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর হঠাৎ আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। সে সময় আমরা ১১ জন ছিলাম- এর মধ্যে তিনজন শিক্ষক ও আটজন শিক্ষার্থী। আমাদের সঙ্গে থাকা আহত শিক্ষার্থীকে নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। ইতোমধ্যে আমাদের দুই শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং একজন শিক্ষকও হাসপাতালে গেছেন।”
আহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে দ্রুত উদ্ধার করে ইবি মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে ডা. বদিউজ্জামান বলেন, "আমার এখানে অজ্ঞান অবস্থায় এসেছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। এখন তার অবস্থা স্বাভাবিক।"
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, “হামলার সময় আমরা কোনো ধরনের পাল্টা আক্রমণ করিনি। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সামনে থেকেই পুরো ঘটনা দেখেছেন। এমনকি আমাদের শিক্ষককেও আঘাত করা হয়েছে। এরপরও যদি এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটি প্রশাসনই ভালো বলতে পারবে।”
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ জরুরি বৈঠকে বসেছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জানিয়েছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ বলেন, “আমি কোনো অনশনে বসিনি, থানাতেও যাই নি; আপাতত ছাত্রদের সাথে আলোচনা করছি। পরবর্তীতে মিটিংয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এদিকে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মঞ্জুর রহমান জানান, বাংলা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ জরুরি সভায় মিলিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ করতে বিভাগের সভাপতিকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. মামুন আল রশিদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “শিক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমি সবসময় জোরালো ভূমিকা পালন করি। তোমাদের বেঁধে দেওয়া সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত হলেও, তার আগেই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য মহোদয় একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি মিটিং রেখেই রেজিস্ট্রারকে তাৎক্ষণিকভাবে অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং রেজিস্ট্রার মহোদয় ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেয়ে গেছেন। তোমাদের দাবির প্রতি উপাচার্য স্যার পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন। বর্তমানে রেজিস্ট্রার সাহেব সিদ্ধান্ত টাইপ করছেন; এ ঘটনার তাৎক্ষণিক (ইনস্ট্যান্ট) বিচার হবে। পাশাপাশি নিয়মানুযায়ী অন্যান্য বিচারিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হবে, যা এই মুহূর্তে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না।”
—জা. অর্থনীতি/এলএটি