তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক: ভিডিও ও স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও থেকে আয় করতে নতুন নির্মাতাদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর করছে ইউটিউব। আগামী বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এতে ইউটিউবের পার্টনার প্রোগ্রামে যুক্ত হয়ে বিজ্ঞাপন থেকে আয় করতে নতুন নির্মাতাদের আগের তুলনায় বেশি দর্শক ও দেখার সময় অর্জন করতে হবে।
ইউটিউবের পার্টনার প্রোগ্রামে বিজ্ঞাপনের আয় ভাগ পাওয়ার জন্য নতুন নির্মাতাদের গত ৩৬৫ দিনে অন্তত ৮ হাজার ঘণ্টা যোগ্য হিসেবে গণ্য দেখার সময় অথবা গত ৯০ দিনে ২ কোটি যোগ্য স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও দেখা লাগবে। পাশাপাশি নির্মাতার অন্তত ১ হাজার গ্রাহক থাকতে হবে।
এর আগে ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপনের আয় ভাগ পেতে ৪ হাজার ঘণ্টা দেখার সময় অথবা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওতে ১ কোটি দেখার সংখ্যা প্রয়োজন হতো। অর্থাৎ নতুন নিয়মে আয় ভাগ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দেখার সময় ও স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও দেখার সংখ্যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।
তবে নতুন নিয়মে বর্তমানে ইউটিউবের পার্টনার প্রোগ্রামে থাকা নির্মাতাদের ওপর প্রভাব পড়বে না। নতুন করে ইউটিউব থেকে আয় করতে চান এমন নির্মাতাদের ক্ষেত্রে আগামী বছরের শুরু থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে। ফলে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা এড়াতে নতুন নির্মাতাদের এখন থেকেই নিজেদের বিষয়বস্তু তৈরির কৌশলে পরিবর্তন আনার সুযোগ থাকছে।
ইউটিউব কেন এই নিয়ম পরিবর্তন করেছে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট কোনো কারণ জানায়নি। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মটিতে অনেক নির্মাতা তাদের বিষয়বস্তু থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আয় করছেন। নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের জন্য আয় করার প্রবেশপথ আরও কঠিন করার লক্ষ্যেই নিয়ম পরিবর্তন করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন নিয়মে প্রতিদ্বন্দ্বী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামও সুবিধা পেতে পারে। ইউটিউবের নতুন নির্মাতাদের জন্য কঠোর নিয়মের কারণে ইনস্টাগ্রাম প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মটির তৈরি করা শূন্যস্থান পূরণের সুযোগ পেতে পারে। তবে ইউটিউবে আয়ের সম্ভাবনা ইনস্টাগ্রামের তুলনায় অনেক বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সও তার বিদ্যমান বিষয়বস্তুভিত্তিক আয় ব্যবস্থা বন্ধ করে প্ল্যাটফর্মে মৌলিক বিষয়বস্তু প্রকাশকারী ব্যবহারকারীদের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পথে এগোচ্ছে। একই সময়ে ইউটিউবের নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর নির্মাতা ও আয়ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ