নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে প্রায় ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদক জানিয়েছে, মিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সাবেক এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকার নির্ধারিত ৯৮ হাজার ৯৯০ টাকার অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য এজেন্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন আসামিরা। এরপর মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি অর্থ আদায় করা হয়।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, চুক্তিবদ্ধ আইনসঙ্গত পারিশ্রমিকের বাইরে অবৈধ পারিতোষিক গ্রহণের মাধ্যমে মোট ৭ হাজার ৭১৪ জন মালয়েশিয়ায় প্রেরিত কর্মীর কাছ থেকে পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। এভাবে সর্বমোট ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক আরও জানিয়েছে, অবৈধভাবে অর্জিত ওই অর্থ বিভিন্ন পন্থায় হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে দুদক বলেছে, আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উল্লেখিত অর্থ স্থানান্তর ও পাচার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ কোথায় রাখা হয়েছে- এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তবে আসামিপক্ষ রিমান্ডের বিরোধিতা করে আদালতে আবেদন করে। আইনজীবীরা বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত, সাবেক সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। তার বয়স ৭০ বছরের বেশি এবং তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত। ফলে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা ঝুঁকিপূর্ণ বলেও দাবি করেন তারা।
আসামিপক্ষ আরও যুক্তি দেয়, মামলার অভিযোগের মূল বিষয় আর্থিক লেনদেন, চুক্তি , পাসপোর্ট সংগ্রহ ও কিস্তি গ্রহণসংক্রান্ত, যেগুলো মূলত নথিপত্র ও হিসাবের মাধ্যমে যাচাইযোগ্য। ব্যাংক লেনদেন, রসিদ, চুক্তিপত্রসহ সংশ্লিষ্ট নথি দুদক ইতোমধ্যে সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।
দুই পক্ষের বক্তব্য ও নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে চার দিনের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রিমান্ড কার্যক্রম সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
—জা.অর্থনীতি/আরএস