আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমারে পৌঁছেছেন। বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার তীব্র সমালোচনার মুখেও তাদের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
মিয়ানমারের মন্ত্রী নে লিন তুন জানান, গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়া থেকে দুটি যুদ্ধজাহাজ ও একটি হাসপাতাল জাহাজে করে রওনা হওয়া ১ হাজার ৪৭৯ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী রোববার (৪ অক্টোবর) স্থানীয় সময় ভোরে দক্ষিণ ইয়াঙ্গুনে পৌঁছেন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশটিতে অভিবাসী আটক কেন্দ্রে থাকা ১০ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিকের মধ্যে ধাপে ধাপে ৫ হাজার জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, ফেরত পাঠানো সকলেই স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে সম্মতি দিয়েছেন। তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সামনে অন্য কোনও বিকল্প ছিল না।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) গত সপ্তাহে জানায়, রোহিঙ্গারা ‘প্রকৃতপক্ষেই স্বেচ্ছায়’ মিয়ানমারে ফিরে গেছেন কি না, বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের তাদের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি।
সম্প্রতি শরণার্থী কেন্দ্রগুলোতে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তাদের ব্যাপক অভিযানের পর এই ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলো। ২০২৬ সালে এ ধরনের অভিযানের ফলে ৫০ হাজারেরও বেশি শরণার্থী আটক হয়েছেন।
শরণার্থীদের প্রতি মালয়েশিয়ায় বিরূপ মনোভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত জুলাইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ঘোষণা দেন। প্রত্যাবাসন করা ব্যক্তিরা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তার জন্য বোঝা তৈরি করছেন, এমন অজুহাতে আরও সাড়ে তিন হাজারের বেশি শরণার্থীর দ্বিতীয় দলটিকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কুয়ালালামপুর।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ