পশ্চিম তীরে মসজিদে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও দেয়ালে উসকানিমূলক হিব্রু গ্রাফিতি এঁকেছে উগ্রপন্থী ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) পশ্চিম তীরের মিখমাস গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। মসজিদটির কাছাকাছি বসবাসকারী প্রত্যক্ষদর্শী আত্তা কানান জানান, মধ্যরাতের পরপরই কাচ ভাঙার শব্দ শুনে তিনি মসজিদের দিকে ছুটে যান এবং সেখানে আগুন জ্বলতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় যুবকেরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং পুরো ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

এএফপির তথ্য ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে মসজিদের মেঝের কার্পেট সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং ভেতরের দেয়ালগুলো ধোঁয়ায় কালো হয়ে গেছে। এছাড়া হামলাকারীরা মসজিদের বাইরে থাকা একটি ব্যক্তিগত গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়। মসজিদের বাইরের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন স্লোগান স্প্রে করে লেখা হয়েছে, যার মধ্যে একটি ছিল ‘আমরা চুপ করে আছি মানে এই নয় যে ঘুমিয়ে পড়েছি’। বসতিস্থাপনকারীরা গ্রামের বাড়িঘরে আগুন দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা সম্প্রতি এলাকায় রাতপাহারার দল গঠন করেছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মসজিদে গ্রাফিতি, অগ্নিসংযোগ এবং একটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়ে মিখমাস গ্রামে তাৎক্ষণিকভাবে সেনা সদস্য পাঠানো হয়েছিল। তবে এই ঘটনায় জড়িত কোনো সন্দেহভাজনকে এখন পর্যন্ত শনাক্ত বা আটক করা যায়নি। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পবিত্র উপাসনালয়ে এই নাশকতার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সংসদ ফিলিস্তিন ন্যাশনাল কাউন্সিল। কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট রুহি ফাততু একে একটি ‘বর্বর কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদের বিপজ্জনক বৃদ্ধির স্পষ্ট প্রমাণ। রামাল্লাহ ও জেরুজালেমের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত মিখমাস গ্রামের কাছেই বেশ কয়েকটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতি রয়েছে, যেখানকার বাসিন্দারা গত কয়েক মাসে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের ওপর বারবার সহিংস আক্রমণ চালিয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে চরমপন্থী বসতিস্থাপনকারীদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব সহিংসতার মধ্যে শারীরিক নির্যাতন, ফসল ও জমি দখল এবং ঘরবাড়ি ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুর চালানো নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের সামরিক দখলে থাকা পশ্চিম তীরে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে গণ্য বিভিন্ন বসতিতে ৫ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছেন।
জেএ/অভি