জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: টাকা ছাড়া একটা পৃথিবী কল্পনা করতে পারেন? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিত্ব বিশ্বাস করেন, এআই আর রোবটের যুগে টাকার ধারণাটাই একদিন বদলে যেতে পারে। কিন্তু এই দাবিটা কি আসলেই বাস্তবসম্মত, নাকি নিছক একটা ইউটোপিয়ান স্বপ্ন?
টাকার মূল কাজ হলো স্বল্পতা ব্যবস্থাপনা করা, অর্থাৎ সীমিত সম্পদ কীভাবে মানুষের মধ্যে বণ্টন হবে, তা নির্ধারণ করা। ইলন মাস্কের যুক্তি হলো, যদি এআই আর রোবট এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে উৎপাদন খরচ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি চলে আসে, বিশেষ করে শক্তি আর শ্রমের খরচ, তাহলে বহু পণ্য ও সেবা এত সস্তা হয়ে যাবে যে টাকার প্রচলিত ভূমিকা কমে আসবে।
এই ধারণাকে অর্থনীতিতে বলা হয় অ্যাবানডেন্স ইকোনমি বা প্রাচুর্যের অর্থনীতি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সৌরবিদ্যুৎ আর ব্যাটারি প্রযুক্তির দাম গত এক দশকে যেভাবে কমেছে, তাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ ভবিষ্যতে আরও কমে আসতে পারে, আর রোবট শ্রমশক্তি বিনামূল্যে কাজ করার মতো হয়ে উঠলে উৎপাদন খরচও কমে যাবে নাটকীয়ভাবে।
তবে অর্থনীতিবিদদের একটা বড় অংশ এই দাবিতে দ্বিমত পোষণ করেন। তাদের যুক্তি, জমি, খনিজ সম্পদ আর প্রকৃতিগতভাবে সীমিত জিনিসের স্বল্পতা কখনোই পুরোপুরি দূর হবে না, তাই সম্পূর্ণ অর্থহীন এক অর্থনীতি বাস্তবে সম্ভব না। বরং টাকার ভূমিকা বদলাতে পারে, কমতে পারে গুরুত্ব, কিন্তু পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সহজ কথায়, ভবিষ্যতে টাকা হয়তো আজকের মতো সর্বব্যাপী থাকবে না, তবে একেবারে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাওয়ার দাবিটা এখনো বাস্তবতার চেয়ে কল্পনার কাছাকাছি।
প্রাচুর্যের অর্থনীতি কতটা বাস্তব?
টাকা ছাড়া একটা পৃথিবী কল্পনা করতে পারেন? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিত্ব বিশ্বাস করেন, এআই আর রোবটের যুগে টাকার ধারণাটাই একদিন বদলে যেতে পারে। কিন্তু এই দাবিটা কি আসলেই বাস্তবসম্মত, নাকি নিছক একটা ইউটোপিয়ান স্বপ্ন?
মাস্ক বিশ্বাস করেন, এআই আর রোবটের যুগে উৎপাদন খরচ শূন্যের কাছাকাছি চলে এলে টাকার গুরুত্ব কমে যাবে, একে বলা হয় প্রাচুর্যের অর্থনীতি। সৌরবিদ্যুৎ আর ব্যাটারির দাম যেভাবে কমছে, তাতে এই দাবির কিছুটা যুক্তিও আছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জমি বা খনিজের মতো প্রকৃতিগত স্বল্পতা কখনো পুরোপুরি দূর হবে না, তাই সম্পূর্ণ অর্থহীন অর্থনীতি বাস্তবে অসম্ভব। বরং টাকার ভূমিকা বদলাতে পারে, কমতে পারে গুরুত্ব, কিন্তু পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই এই স্বপ্নটা এখনো বাস্তবতার চেয়ে কল্পনার কাছাকাছি।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি