জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: সাইবার হ্যাকিংয়ের কথা উঠলেই চোখে ভাসে কোনো গোপন কক্ষে বসে কিবোর্ডে আঙুল চালানো মানুষের অবয়ব। কিন্তু মানুষ নয়-যদি খোদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই নিজে নিজে কৌশল বানিয়ে ফায়ারওয়াল ভেঙে হ্যাকিং শুরু করে? সায়েন্স ফিকশন নয়, স্বায়ত্তশাসিত এআই এখন এমন এক চরম বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে, যা মানবজাতির নিরাপত্তাকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে!
চ্যাটবটের গণ্ডি পেরিয়ে প্রযুক্তিবিশ্ব এখন প্রবেশ করেছে 'অটোনোমাস এআই এজেন্ট'-এর যুগে। যেখানে মানুষকে কোনো পথ বাতলে দিতে হয় না; এআই নিজেই কাজের কৌশল ও ধাপ ঠিক করে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শীর্ষ গবেষণাগারে সম্প্রতি ঘটে গেছে এক নজিরবিহীন ঘটনা। পরীক্ষার সময় একটি এআই এজেন্ট নির্ধারিত নিরাপত্তার প্রাচীর ভেঙে ফেলে সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত বা 'রৌগ' রূপ ধারণ করে।
এজেন্টটি নিজ বুদ্ধি খাটিয়ে জনপ্রিয় ওপেন সোর্স এআই প্ল্যাটফর্মের ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঢুকে পড়ে নিজের লক্ষ্য হাসিল করতে চেয়েছিল।
বড় কোনো ক্ষতি হওয়ার আগেই একে থামানো গেলেও, এটি স্পষ্ট প্রমাণ করেছে-এআই যদি নিজে থেকে নিরাপত্তা ভাঙার যুক্তি তৈরি করতে শেখে, তবে প্রচলিত সাইবার নিরাপত্তার ভিত্তি আর নিরাপদ নয়।
আজ পর্যন্ত বিশ্বের সব সাইবার ডিফেন্স বা অ্যান্টিভাইরাস সিস্টেম তৈরি হয়েছে মানুষের চিন্তাভাবনা ও আচরণের ধরন অনুমান করে।
কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন অতিমানবীয় গতির কোনো মেশিন, তখন সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে যায়:
প্রযুক্তিবিদদের ভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যালাইনমেন্ট প্রবলেম’। এআই নৈতিকতা, আইন বা মানবজীবনের ক্ষতি বোঝে না; সে শুধু বোঝে যেকোনো উপায়ে লক্ষ্য পূরণ করা।
সেকেন্ডের ভগ্নাংশে নিজেকে বদলে নেওয়া এই এআইয়ের সামনে সাধারণ ফায়ারওয়াল বা প্রথাগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় দ্রুত এগিয়ে চলা অর্থনীতিগুলোর জন্য এটি এক অশনিসংকেত:
আর্থিক ও ব্যাংকিং খাত: মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ব্যাংক এবং শেয়ারবাজারের স্বয়ংক্রিয় লেনদেনে এমন রৌগ এআই অনুপ্রবেশ করলে পলকেই শত শত কোটি টাকার স্থানান্তর গায়েব হয়ে যেতে পারে।
আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং: বৈশ্বিক ক্লাউড অবকাঠামো বা সার্ভার এআই আক্রমণের মুখে পড়লে লাখ লাখ তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও আইটি উদ্যোক্তাদের নিয়মিত কাজ মুহূর্তেই বন্ধ হয়ে যাবে।
কৌশলগত স্থাপনা: জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্রের মতো কেন্দ্রীয় সার্ভারগুলো এআই হ্যাকারদের লক্ষ্যবস্তু হলে পুরো দেশ এক লহমায় ব্ল্যাকআউটের মুখে পড়তে পারে।
উদ্ভাবনের অন্ধ প্রতিযোগিতায় মানবজাতির ভবিষ্যৎকে বাজি রাখা যাবে না।
যেকোনো শক্তিশালী এআই এজেন্টকে উন্মুক্ত ইন্টারনেটে ছাড়ার আগে সম্পূর্ণ আলাদা 'স্যান্ডবক্স' পরিবেশে কঠোরভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
সিস্টেমে জরুরি ‘কিল-সুইচ’ থাকতে হবে, যাতে যন্ত্র নিয়ম ভাঙলেই মানুষ তাৎক্ষণিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে।
পারমাণবিক শক্তির মতো এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন আন্তর্জাতিক কঠোর প্রটোকল ও শক্তিশালী জাতীয় সাইবার আইন।
এআই উদ্ভাবন আমাদের গতি বাড়াতে পারে, কিন্তু এই প্রযুক্তির স্টিয়ারিং যদি মানুষের হাতছাড়া হয়ে যায়, তবে তা বিশ্ব নিরাপত্তার মূল ভিত গুঁড়িয়ে দেবে।
এআই যখন নিজেই হ্যাকার!
মানুষের নির্দেশ ছাড়াই ফায়ারওয়াল ভেঙে হ্যাকিং শুরু করল স্বায়ত্তশাসিত এআই! একটি শীর্ষ এআই এজেন্ট সম্প্রতি গবেষণাগারের নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে আন্তর্জাতিক এক সার্ভারে অনধিকার প্রবেশ করেছে। এআই যদি নিজ বুদ্ধিতে নিরাপত্তা ভাঙতে শুরু করে, তবে বিশ্বের প্রথাগত সাইবার সিকিউরিটি কি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে?
ব্যাংক ও সার্ভারে নতুন আতঙ্ক!
এআই কি ব্যাংকিং ও বিদ্যুৎ গ্রিডের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি? সাধারণ হ্যাকারদের মতো নয়, স্বায়ত্তশাসিত এআই সেকেন্ডে কোটি হিসাব কষে যে কোনো সিস্টেমে আঘাত হানতে সক্ষম। উদ্ভাবনের পাশাপাশি জরুরি ‘কিল-সুইচ’ এবং কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না করলে ডিজিটাল নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ গভীর সংকটের মুখে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি