হামলার ঝুঁকিতে বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল তেলের দাম

জাতীয় অর্থনীতি আন্তর্জাতিক: মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঝুঁকিতে বিশ্ববাজারে আরও বেড়েছে তেলের দাম। রয়টার্স বলছে, লোহিত সাগর ও আশপাশের জলপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা উদ্বেগও দাম বাড়ার কারণ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ১০৯ দশমিক ৬৪ ডলারে পৌঁছেছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৭৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে সমুদ্র মাইনের আঘাতে একটি বিশাল তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যাওয়ার খবর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবিভাগের দাবি, জাহাজটি ইরানের নিয়ম লঙ্ঘন করছিল।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৮টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জাহাজে হামলার ঝুঁকি এখন শুধু হরমুজ প্রণালিতে সীমাবদ্ধ নেই। ওমান উপসাগর পর্যন্ত এ ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহন ও সরবরাহ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সোমবার সৌদি আরামকোর ইয়ানবু স্থাপনা, শাইবাহ তেলক্ষেত্র এবং সৌদি আরবের রিয়াদ ও আবহা বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার খবর সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের বৈঠকে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ খবরের পর আগের দিনের লেনদেনে তেলের দাম কমেছিল।

মঙ্গলবার লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে দাম বেড়ে পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ ১১১ দশমিক ৯৯ ডলারে পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের নভেম্বরের চুক্তির দাম মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে ১ দশমিক ৮৭ ডলার বা ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৭৯ ডলারে লেনদেন শেষ করে।

এদিকে রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া আট বিশ্লেষকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল কমে থাকতে পারে। একই সময়ে পরিশোধিত জ্বালানির মজুতও কমার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বাড়তি চাপে পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ