দুই মৌসুমের সবজি মিলছে বাজারে, কমেছে ডিমের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। শীত ও গ্রীষ্ম দুই মৌসুমের সবজি একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। ফলে বেশিরভাগ সবজির দাম রয়েছে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছে ডিমের দাম। তবে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও তালতলা বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। শিম, নতুন আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়শ ও শসাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে অধিকাংশ সবজি কেজিতে ৫০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে টমেটো ও ক্যাপসিকামের মতো কিছু সবজির দাম তুলনামূলক বেশি।

বাজারে আলু ও পেঁপের দাম তুলনামূলক কম। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। শাকের দামও খুব বেশি না হলেও পালংশাকের দাম বেশ চড়া। শীতের এই শাকের ছোট্ট একটি আঁটিই ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর অন্যান্য শাকের মধ্যে লালশাক, কলমিশাক, পুঁইশাক ও লাউশাকের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি শাক আগের দামেই পাওয়া যাচ্ছে। সবজির বাজারে স্বস্তি থাকলেও মুরগির দামে কিছুটা চাপ রয়েছে। বিশেষ করে সোনালি কক মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩৩০ টাকায় উঠেছে। ব্রয়লার মুরগি পূর্বের দাম ১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে প্রজাতি ও আকারভেদে দামের বড় পার্থক্য রয়েছে। চাষের পাঙাশ ও তেলাপিয়ার মতো মাছ তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও দেশি শিং, মাগুর ও বড় আকারের মাছ কিনতে ক্রেতাদের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। রুই মাছের দামও কিছুটা বেড়েছে। বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। হাঁসের ডিমের ডজন ১৮০ টাকা। অন্যদিকে দেশি মুরগির ডিমের দাম তুলনামূলক বেশি।

এদিকে চাল ও ডালের বাজারে নতুন কোনো পরিবর্তন নেই। সরু চাল কেজিতে ৭০ থেকে ৮৫ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চালের দাম রয়েছে মাঝামাঝি পর্যায়ে। ডালের মধ্যে ভারতীয় মসুর ডাল তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও দেশি মসুর ডালের দাম বেশি। মুগ ডালও মানভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও মাছ, মাংস ও মুরগির বাজারে ব্যয়ের চাপ রয়েছে। ফলে কয়েকটি পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিক বাজারে কেনাকাটার খরচ খুব বেশি কমার চিত্র পাওয়া যায়নি।