দুই মাসে কৃষিঋণ বিতরণ  ৬,৮৫৮ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) দেশে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৮৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। গত বছরের জুলাই-আগস্টে ৪ হাজার ৮২৬ কোটি ৩ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছিল ব্যাংকগুলো। একই সময়ে নতুন ঋণ বিতরণের চেয়ে পুরোনো ঋণ আদায়ের পরিমাণও বেড়েছে। এ দুই মাসে ব্যাংকগুলো কৃষিঋণ আদায় করেছে ৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা বিতরণের চেয়ে ৫৬১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আগস্ট ২০২৬ মাসের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থায়নবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে কৃষিঋণ আদায় হয়েছিল ৬ হাজার ৭৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ আদায় বেড়েছে ২২ দশমিক ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ ঋণ বিতরণ ও আদায় দুই ক্ষেত্রেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে বিতরণের তুলনায় আদায়ের প্রবৃদ্ধি কম ছিল।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছিল ২ হাজার ৬৫৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৯৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে কৃষিঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। সেই হিসাবে চলতি বছরের আগস্টে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৫৭ দশমিক ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে আগস্ট মাসে কৃষিঋণ আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৮৯৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। গত বছরের একই মাসে আদায় হয়েছিল এর চেয়ে কম। 

খাতভিত্তিক হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বিতরণ করা কৃষিঋণের ৪৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ গেছে ফসল উৎপাদন খাতে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনে গেছে ৩১ দশমিক ৫৯ শতাংশ ঋণ। মৎস্য খাতে ঋণের অংশ ছিল ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি খাতে ঋণের অংশ বেড়েছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ফসল খাতে বেড়েছে ২ দশমিক ১০ শতাংশ। বিপরীতে মৎস্য খাতে ঋণের অংশ কমেছে ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এছাড়া দারিদ্র্যবিমোচন খাতে বিতরণ করা হয়েছে মোট কৃষিঋণের ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট শেষে ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৬২০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। গত বছরের আগস্টে এ পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ৫৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কৃষিঋণের স্থিতি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। তবে কৃষিঋণের বকেয়া কমেছে। চলতি বছরের আগস্ট শেষে এ ধরনের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৯৩৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম। 

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থায়ন সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিমও গঠন করেছে। এ স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলোর জন্য পুনঃঅর্থায়নের হার ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার রাখা হয়েছে ৭ শতাংশ।