অনলাইন ডেস্ক: পিরোজপুরে নানা বাধা ও উত্তেজনার মধ্যে মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর দাফন করা হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে। শেষ পর্যন্ত পরিবারের নারী সদস্যরাই কবর খুঁড়ে তার দাফনের ব্যবস্থা করেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় কয়েকজনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারীর মৃত্যু হয়। দুপুর ১২টার দিকে তার মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে নেওয়া হলে জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন স্বজনেরা। পরে পুলিশের সহায়তায় মরদেহটি পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে সদর থানা পুলিশ মরদেহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ ও জেলা জামায়াতের নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছায়। পরে তার স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের সদস্যরা কবর খুঁড়ে দাফন সম্পন্ন করেন।
মানিক পশারীর বোনের অভিযোগ, প্রথমবার কবর খোঁড়ার পর স্থানীয়রা তা ভরাট করে দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা আবার কবর খনন করেন। তিনি বলেন, কোনো পুরুষ সদস্য এগিয়ে আসেননি।
তবে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক দাফনে তাদের নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশের নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে এবং কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর যশোর ও টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
জা.অর্থনীতি/এসআই