পাইপ মিস্ত্রি থেকে বাংলার ক্রিশ
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

পেশায় পাইপ মিস্ত্রি মামুন জীবিকার তাগিদে সারাদিন কাজ করেন লোহা আর স্টিলের সঙ্গে। কিন্তু কাজের ফাঁকে তার মন পড়ে থাকে অন্য কোথাও, সিনেমার সুপারহিরো ক্রিশের মতো কিছু একটা করে দেখানোর স্বপ্নে। সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ছুটতে কেটে গেছে প্রায় আট থেকে দশ বছর।

পেশায় যিনি সারাদিন লোহা আর স্টিলের পাইপ জোড়া লাগান, অবসর পেলেই বোনের পুরোনো বোরকা কেটে নিজের হাতে বানান সুপারহিরোর পোশাক-আজ আমরা জানবো সেই বাস্তব জীবনের ক্রিশ-মামুনের গল্প।

ছিল না বড় কোনো আয়োজন, দামি পোশাক বা বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ। ছিল শুধু ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম আর বারবার চেষ্টা করে যাওয়ার মানসিকতা।

সুপারহিরো হওয়ার সাজও মামুনের একেবারেই আলাদা। বোনের পুরোনো একটি বোরকাকে নিজের কল্পনা আর হাতের কাজে তিনি রূপ দিয়েছেন ক্রিশের পোশাকে। অভাবকে অজুহাত না বানিয়ে, সীমিত সামর্থ্য নিয়েই গড়েছেন নিজের সুপারহিরো। সেই পোশাক পরে নানা কসরত আর শূন্যে ওড়ার কৌশল দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।

তার এই ব্যতিক্রমী কাণ্ড দেখতে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। কেউ অবাক হয়ে দেখেন, কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করেন মুহূর্তটা। এভাবেই স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন বাংলার ক্রিশ নামে।

মামুনের এই উদ্যোগ ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। সাধারণ পেশায় যুক্ত একজন মানুষ অবসর সময়ে এমন কিছু করছেন, এটাই তাদের কাছে বিস্ময়ের। কেউ দেখছেন বিনোদন হিসেবে, আবার কেউ মনে করছেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তার প্রতিভা আরও বিকশিত হতে পারে।

মামুনের স্বপ্ন- শুধু ক্রিশের সাজে মানুষের সামনে হাজির হওয়া নয়। তিনি চান নিজের এই প্রচেষ্টাকে আরও উন্নত করতে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, কারিগরি পরামর্শ আর নিরাপদ সরঞ্জাম পেলে তার এই উদ্যোগ নতুন মাত্রা পেতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তার প্রত্যাশা, তার কাজটি যাচাই করে দেখা হোক এবং প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া হোক।

এক হাতে জীবিকার কাজ, অন্য হাতে স্বপ্ন গড়ার চেষ্টা। বোনের পুরোনো বোরকা থেকে তৈরি পোশাক আর প্রায় এক দশকের অধ্যবসায়, এই নিয়েই সিরাজগঞ্জের মামুনের গল্প।

মামুনের স্বপ্ন কত দূর এগোবে, তা বলবে সময়।

তিনি হয়তো এখনো স্বপ্নের চূড়ায় পৌঁছাননি। কিন্তু প্রতিকূলতার মধ্যেও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার এই মানসিকতাই তার গল্পের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।

তার প্রত্যাশা একটাই, সুযোগ পেলে নিজের প্রতিভাকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরতে চান তিনি।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি