নতুন মাসে যে আমলগুলো করতে পারেন
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

নতুন মাস শুরু করছেন, কিন্তু আপনি কি জানেন? এই সময়টিও হতে পারে আল্লাহর নৈকট্য লাভের নতুন সুযোগ? একটি মাস শেষ হয়ে আরেকটি মাস শুরু হওয়া শুধু ক্যালেন্ডার বদল নয়, নিজের জীবন ও আমল পর্যালোচনারও সুযোগ। নতুন মাসে কীভাবে আল্লাহর কাছে বরকত, ক্ষমা ও কল্যাণ চাইবেন? চাঁদ দেখা থেকে শুরু করে দোয়া, তওবা ও নেক আমলের সংকল্প কিছু সহজ আমল হতে পারে আপনার নতুন শুরুর অংশ। নতুন মাস শুরু করার সময় কী কী করা যেতে পারে?

একটি মাস শেষ হয়ে নতুন মাস শুরু হওয়া একজন মুসলমানের জন্য নিজের জীবন ও আমল নিয়ে ভাবার একটি সুযোগ। সময় আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত, আর প্রতিটি নতুন দিন মানুষকে ভালো কাজের দিকে ফিরে আসার নতুন সুযোগ দেয়।

তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। ইসলামে প্রতিটি নতুন মাসের শুরুতে নির্দিষ্ট সংখ্যায় কোনো বিশেষ নামাজ, রোজা বা নির্দিষ্ট আমল করতেই হবে এমন বাধ্যতামূলক বিধান নেই। তাই নতুন মাসকে কেন্দ্র করে এমন কোনো আমলকে সুন্নত বা আবশ্যক বলা ঠিক নয়, যার নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। তবে নতুন মাস শুরু হলে কিছু সাধারণ নেক আমল করা যেতে পারে।

প্রথমত, চাঁদ দেখার দোয়া পড়া। হজরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহর বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, নবীজি নতুন চাঁদ দেখে আল্লাহর কাছে চাঁদকে বরকত, ঈমান, নিরাপত্তা ও ইসলামের ওপর উদিত হওয়ার জন্য দোয়া করতেন।

দোয়াটির অর্থের মর্ম হলো, হে আল্লাহ, এই চাঁদকে আমাদের জন্য বরকত, ঈমান, নিরাপত্তা ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন। আল্লাহই আমার ও তোমার প্রতিপালক।

দ্বিতীয়ত, তওবা ও ইস্তিগফার করা। নতুন মাসকে নিজের ভুলগুলো নিয়ে ভাবার উপলক্ষ বানানো যায়। অতীতের গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিষ্যতে ভালো থাকার সংকল্প করা একজন মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমল।

তৃতীয়ত, নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতের প্রতি নতুন করে মনোযোগ দেওয়া।

যারা নিয়মিত নামাজ পড়েন, তারা আরও মনোযোগ ও খুশুর সঙ্গে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করতে পারেন। আর যারা কোনো কারণে নিয়মিত হতে পারেননি, নতুন মাস হতে পারে সেই অভ্যাস শুরু করার একটি সুন্দর সময়।

চতুর্থত, সদকা ও মানুষের উপকার করা। অর্থ দিয়ে সাহায্য করা ছাড়াও একজন অসহায় মানুষকে খাবার দেওয়া, কারও প্রয়োজন মেটানো, ভালো কথা বলা কিংবা বিপদে পাশে দাঁড়ানো এসবও নেক কাজ।

পঞ্চমত, নিজের জন্য এবং পরিবারের জন্য কল্যাণের দোয়া করা। আল্লাহর কাছে ঈমানের দৃঢ়তা, সুস্থতা, হালাল রিজিক, পরিবারে শান্তি, ঋণমুক্তি এবং জীবনে বরকত চাওয়া যেতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি-শুধু নতুন মাস শুরু হয়েছে বলেই কোনো নির্দিষ্ট দোয়া পড়লে নিশ্চিতভাবে বিশেষ বরকত পাওয়া যাবে, এমন দাবি করার আগে তার নির্ভরযোগ্য ইসলামি উৎস থাকা প্রয়োজন। কারণ ইসলামে ইবাদতের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি সঠিক জ্ঞানও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই নতুন মাসের সবচেয়ে সুন্দর শুরু হতে পারে খুব সাধারণ কিছু সংকল্প দিয়ে নামাজে নিয়মিত হওয়া, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো, গুনাহ থেকে ফিরে আসা, মানুষের হক আদায় করা এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে সাহায্য চাওয়া।

একটি নতুন মাস আমাদের হাতে আরেকটি সুযোগ তুলে দেয়। গত মাসে যা হারিয়েছি, তা হয়তো ফিরে পাব না। কিন্তু নতুন মাসে কীভাবে জীবন কাটাব, সেই সিদ্ধান্ত আজ থেকেই নেওয়া সম্ভব। তাই নতুন মাস শুধু ক্যালেন্ডারের নতুন পাতা নয় এটি হতে পারে নিজের আমল ও জীবনকে নতুন করে সাজানোর একটি সুযোগ।

নতুন মাসের শুরুতে যেসব আমল করতে পারেন

নতুন মাস শুরু হলে ইসলামে বাধ্যতামূলক কোনো বিশেষ আমল নেই। তবে চাঁদ দেখে দোয়া করা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতে মনোযোগ বাড়ানো এবং সদকা করা উত্তম নেক কাজ। নতুন মাসকে নিজের ভুল থেকে ফিরে আসার নতুন সুযোগ হিসেবেও নেওয়া যায়। আল্লাহর কাছে ঈমানের দৃঢ়তা, হালাল রিজিক, সুস্থতা, পরিবারে শান্তি ও জীবনে বরকতের জন্য দোয়া করতে পারেন। অর্থাৎ নতুন মাসের সবচেয়ে সুন্দর শুরু হতে পারে তওবা, ইবাদত ও ভালো কাজের সংকল্প দিয়ে।

নতুন মাসে নিজেকে বদলাতে করুন পাঁচ আমল

একটি মাস শেষ, আরেকটি মাস শুরু। মুসলমানের জন্য এটি শুধু সময়ের পরিবর্তন নয়, নিজের আমল পর্যালোচনারও সুযোগ। নতুন মাসে চাঁদ দেখে দোয়া করা, ইস্তিগফার করা, নামাজে মনোযোগী হওয়া, কোরআন তিলাওয়াত করা এবং মানুষের উপকার করা যেতে পারে। তবে নতুন মাসের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ আমল বা দোয়াকে বাধ্যতামূলক মনে করা ঠিক নয়, যদি তার নির্ভরযোগ্য ভিত্তি না থাকে। তাই নতুন মাস শুরু করুন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে এবং ভালো মানুষ হওয়ার নতুন সংকল্প নিয়ে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি