হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে হিন্দু মন্দিরে ইট ছুড়ে জানালা ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে। নবরাত্রি উদ্‌যাপনের প্রস্তুতির মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। তবে হামলাটি ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে বিদ্বেষপ্রসূত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটে গত ২ অক্টোবর, ক্লিভল্যান্ডের উপকণ্ঠে রিচমন্ড হাইটস এলাকার শ্রী স্বামীনারায়ণ ভাদতাল ধাম হিন্দু মন্দিরে। স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মন্দিরের জানালা লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়। এতে দুটি জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং কাচের টুকরা মন্দিরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় সেখানে পুরোহিত ও বেশ কয়েকজন উপাসক উপস্থিত ছিলেন। তবে কেউ আহত হননি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (এইচএএফ) এবং কোয়ালিশন অব হিন্দুজ অব নর্থ আমেরিকা (কোহনা) ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানায়। সংগঠন দুটি সম্ভাব্য বিদ্বেষমূলক অপরাধের আশঙ্কা প্রকাশ করে তদন্তের আহ্বান জানায়। এ ছাড়া এফবিআই ও মার্কিন বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগকে বিষয়টি জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে পুলিশের বক্তব্যে তদন্তের ভিন্ন দিক উঠে এসেছে। ৮ অক্টোবর প্রকাশিত ধর্মবিষয়ক সংবাদমাধ্যম রিলিজিয়ন নিউজ সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিচমন্ড হাইটস পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইভান রাইট জানিয়েছেন, হামলার পেছনে ধর্মীয়, বর্ণগত বা বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হলেও, ওই সময় পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে।

স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বলছেন, উপাসনালয়ে এমন ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। মন্দিরটি ২০২৫ সালের জুনে চালু হয়। বৃহত্তর ক্লিভল্যান্ড অঞ্চলে বসবাসকারী হিন্দুদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর ও বিদ্বেষমূলক লেখার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ওহাইওর ঘটনাটি ঘিরে উদ্বেগ বাড়লেও, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

জা.অর্থনীতি/এসআই