নতুন পে স্কেলে পেনশনভোগীরা কত টাকা বেশি পাবেন?
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: নতুন পে স্কেল শুধু কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীদের বেতনই বাড়াচ্ছে না, বাড়ছে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মাসিক নিট পেনশনও। তবে সবার পেনশন একই হারে বাড়বে না। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে নিট পেনশন পাওয়া যাচ্ছিল, সেটির ওপর ভিত্তি করে পাঁচটি স্ল্যাবে নতুন পেনশন নির্ধারণ করা হয়েছে। যাদের ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম, তাদের বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ। নতুন নিট পেনশন হবে সর্বনিম্ন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা।

৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বৃদ্ধির হার ৭৫ শতাংশ। নতুন নিট পেনশন হবে ১৮ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত যাদের পেনশন, তাদের বৃদ্ধির হার ৬৫ শতাংশ। নতুন নিট পেনশন হবে ৩৫ হাজার ১ টাকা থেকে ৪৯ হাজার টাকা। ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার ৬০ শতাংশ। নতুন নিট পেনশন হবে ৪৯ হাজার ১ টাকা থেকে ৬২ হাজার টাকা। আর ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ। এই শ্রেণিতে নতুন নিট পেনশন সর্বনিম্ন ৬২ হাজার ১ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ সবচেয়ে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শতাংশের হিসাবে বৃদ্ধিটা বেশি। আবার সর্বোচ্চ নতুন নির্ধারিত নিট পেনশন ৭০ হাজার ২০০ টাকা।

তবে এখানে একটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই পুরো বৃদ্ধি একসঙ্গে পাওয়া যাবে না। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত পেনশনের পার্থক্যের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে যাদের ভিত্তি পেনশন ২০ হাজার টাকা বা কম; আর ২০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি হলে ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে। ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ বর্ধিত পেনশন কার্যকর হবে।

ধরা যাক, কারও ৩০ জুন ২০২৬-এর নিট পেনশন ছিল ৯ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় তার নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা হতে পারে। অর্থাৎ পূর্ণ বাস্তবায়নে মাসে বাড়তে পারে ৯ হাজার টাকা। আবার কারও পুরোনো নিট পেনশন ২০ হাজার টাকা হলে নতুন কাঠামোয় তা সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা হতে পারে। অর্থাৎ পূর্ণ বাস্তবায়নে মাসে বাড়তে পারে ১৫ হাজার টাকা। আর ৪০ হাজার টাকা নিট পেনশন পাওয়া একজনের ক্ষেত্রে নতুন কাঠামোয় তা সর্বোচ্চ ৬২ হাজার টাকা হতে পারে। অর্থাৎ পূর্ণ বাস্তবায়নে পার্থক্য হতে পারে ২২ হাজার টাকা।

এবার আসা যাক এককালীন টাকার হিসাবে। নতুন পে স্কেলে অবসরভোগীদের পেনশন ও আনুতোষিকের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন পে স্কেলের কারণে অবসরপ্রাপ্তদের এককালীন আনুতোষিকের হার আলাদাভাবে বাড়ানো হয়নি। চাকরিকালের ওপর ভিত্তি করে প্রচলিত হারে আনুতোষিক নির্ধারণ হবে।

২০ বছর বা তার বেশি পেনশনযোগ্য চাকরিকালের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে সমর্পিত প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে আনুতোষিকের হার ২৩০ টাকা। ১৫ থেকে ২০ বছরের কম হলে ২৪৫ টাকা, ১০ থেকে ১৫ বছরের কম হলে ২৬০ টাকা এবং ৫ থেকে ১০ বছরের কম হলে ২৬৫ টাকা হারে হিসাব করা হয়। আর অবসরের সময় ছুটি পাওনা থাকলে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ ছুটি নগদায়নের বিধানও বহাল আছে। তাই নতুন পে স্কেলে পেনশনভোগীদের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে মাসিক নিট পেনশনে। এককালীন আনুতোষিকের হার আগের নিয়মেই থাকছে।

সহজ করে বললে, ৩০ জুন ২০২৬-এ আপনার নিট পেনশন কত ছিল, সেটিই নতুন পেনশন হিসাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আর ব্যক্তিভেদে চূড়ান্ত অঙ্ক জানতে নিজের পেনশন রেকর্ড অনুযায়ী হিসাব করতে হবে। সরকারি পেনশন ক্যালকুলেটরেও অবসরের তারিখ ও নিট পেনশনের তথ্য দিয়ে হিসাব করার ব্যবস্থা রয়েছে।

পেনশন বাড়বে সর্বোচ্চ কত টাকা?

নতুন পে স্কেলে পেনশনভোগীদের জন্য বড় পরিবর্তন এসেছে মাসিক নিট পেনশনে। ৩০ জুন ২০২৬-এ যাদের নিট পেনশন ছিল ৯ হাজার টাকা বা কম, তাদের নতুন পেনশন সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা। ২০ হাজার টাকা পেনশন হলে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা। আর ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি পেনশনের ক্ষেত্রে নতুন সর্বোচ্চ সীমা ৭০ হাজার ২০০ টাকা। তবে পুরো বাড়তি টাকা একসঙ্গে নয়। ধাপে ধাপে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে কার্যকর হবে নতুন হার।

এককালীন পেনশনের টাকাও কি বাড়ছে?

নতুন পে স্কেলে মাসিক পেনশন বাড়লেও এককালীন আনুতোষিকের হার বাড়ানো হয়নি। অর্থাৎ প্রচলিত নিয়মেই থাকবে এককালীন টাকার হিসাব। ২০ বছর বা তার বেশি চাকরিকালে বাধ্যতামূলকভাবে সমর্পিত প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে পাওয়া যাবে ২৩০ টাকা আনুতোষিক। এর বাইরে অবসরের সময় প্রাপ্য ছুটি থাকলে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ ছুটি নগদায়নের বিধানও রয়েছে। অর্থাৎ নতুন পে স্কেলে মূল পরিবর্তনটি হচ্ছে মাসিক পেনশনে।  

 

—জা. অর্থনীতি/এলএটি