স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

অর্থনীতি ডেস্ক: পুঁজিবাজারে টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির (ডাইরেক্ট লিস্টিং) ওপর ১৬ বছর আগে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সরকার। এর ফলে সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ার বাইরে নির্ধারিত বিধিবিধান মেনে সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পুঁজিবাজার-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) পাঠানো হয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব মো. মামুনুর রশীদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, পুঁজিবাজারে টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি, বেসরকারি মালিকানাধীন ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির বিষয়ে ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নির্দেশক্রমে প্রত্যাহার করা হলো।

এতে বলা হয়, এ বিষয়ে বিএসইসির চেয়ারম্যানের গত ১৯ আগস্টের ডিও (আধা সরকারি) পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নীতিশাখা থেকে জারি করা এক স্মারকের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি তালিকাভুক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

প্রায় ১৬ বছর পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো। সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কোনো কোম্পানি প্রচলিত আইপিও প্রক্রিয়ার বাইরে নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ করে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারে।

এতে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পথও সম্প্রসারিত হতে পারে।

সরকারি ও বেসরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকেও সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে দেশে কার্যরত বড় ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে আসার পথ আরও উন্মুক্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, তালিকাভুক্তির সুযোগ বাড়লে বাজারে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির সংখ্যা বাড়তে পারে। এতে বিনিয়োগকারীদের জন্যও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

তবে কোন কোম্পানি কীভাবে সরাসরি তালিকাভুক্ত হবে, শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া, শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়গুলো বিএসইসির সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ