গৃহবধু হত্যা, জামিনে বেরিয়ে আসামি হুমকি দিচ্ছে স্বজনদের
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে এসিড নিক্ষেপ করে আমেনা বেগম নামে এক গৃহবধূকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেছে নিহত আমেনার পরিবার ও এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনের লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধ চলাকালে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

কর্মসূচি চলাকালে নিহত আমেনার মা বিলাপ করতে করতে মহাসড়কে শুয়ে পড়লে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে প্রধান আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচারের জোরালো আশ্বাস দেওয়া হলে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।

নিহত আমেনা বেগম আদিতমারী উপজেলার বড় কমলাবাড়ী গ্রামের আফজাল হোসেনের স্ত্রী এবং একই উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের খাতাপাড়া মাজার এলাকার মেয়ে।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর আফজালের সঙ্গে আমেনা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে আমেনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। যৌতুকের ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি আড়াই লাখ টাকার জন্য একই বছরের ২ মার্চ রাতে পাষণ্ড স্বামী আফজাল হোসেন সহাবস্থানের সুযোগে গৃহবধূ আমেনার গোপনাঙ্গে এসিড ঢেলে দেয়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ৯ বছর হাসপাতালের শয্যায় অবর্ণনীয় যন্ত্রণা সহ্য করার পর গত ২১ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু কোলে ঢলে পড়েন আমেনা বেগম।

এসিডদগ্ধ হওয়ার পর আমেনা বেগম নিজেই বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। নিহতের পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয় এবং তার ভাই আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত স্বামী আফজাল হোসেন শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন এবং অন্য আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে নিহতের পরিবারকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছেন বলে স্বজনেরা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামি স্বামী আফজাল হোসেন আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল, যারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পলাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি