হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: শরৎ মানেই নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নির্মল বাতাস আর প্রকৃতির বুকজুড়ে কাশফুলের শুভ্রতার মায়াবী হাতছানি। ঋতুর পালা বদলে শরতের আগমনে কাশফুলের সৌন্দর্যে নতুন সাজে সেজেছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।
হোসেনপুর উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দেখা মিলছে কাশফুলের বিশাল সমারোহ। শরতের এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ ছুটে আসছেন এখানে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলজুড়ে সারি সারি কাশফুল বাতাসে দুলছে। দক্ষিণা বাতাসে কাশফুলের সাদা শীষগুলো যেন ঢেউয়ের মতো দুলে উঠছে।
দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতির বুকে সাদা পরির দল নেচে বেড়াচ্ছে। নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর সবুজের মাঝে কাশফুলের শুভ্রতা পুরো পরিবেশকে করে তুলেছে মনোমুগ্ধকর।
মেঘনার চরে শরতের শুভ্রতা, কাশফুল দেখতে মানুষের ভিড়
কাশবনে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও সেলফি তুলছেন। কেউ কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ আবার প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যস্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ছড়িয়ে পড়ায় হোসেনপুরের কাশবনের প্রতি মানুষের আগ্রহও বাড়ছে।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাশবনে মানুষের আনাগোনা থাকলেও শেষ বিকেলে এর সৌন্দর্য যেন কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সূর্যের নরম আলো যখন কাশফুলের ওপর পড়ে, তখন সাদা কাশফুলের পুরো প্রান্তর এক অপূর্ব সৌন্দর্যে ভরে ওঠে। এ কারণে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
উপজেলার সাহেবের চর গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেন বলেন, মানসিক শান্তি ও কাশফুলের শুভ্রতা উপভোগ করতে এখানে ছুটে এসেছি। প্রতিবছরই এই এলাকায় কাশফুল ফুটে। শরতের সময় এখানকার পরিবেশ খুবই সুন্দর হয়ে ওঠে।
কাশফুল দেখতে আসা জলিল মিয়া ও মোছা: মনি আক্তার বলেন, কাশফুল ছাড়া শরৎ যেন পরিপূর্ণ হয় না। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে প্রতিবছরই কাশফুল ফুটে। দূর থেকে কাশবনের সৌন্দর্য দেখতে খুবই ভালো লাগে। তবে দুঃখের বিষয়, অনেক দর্শনার্থী কাশফুল ছিঁড়ে নষ্ট করেন। কেউ কেউ কাশবনে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নোংরা করে যান।
কাশফুলের শুভ্রতায় বাড়ছে অর্থনৈতিক গুরুত্ব
স্থানীয়দের দাবি, কাশবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে দর্শনার্থীদের আরও সচেতন হতে হবে। ফুল না ছেঁড়া, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং কাশগাছের ক্ষতি না করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন করা প্রয়োজন। এতে প্রতিবছর শরৎকালে এই কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ থাকবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে।
—জা. অর্থনীতি/এনজে