কুমিল্লার ১৮ থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ৬২৪
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কিশোরদের একটি অংশ দলবদ্ধভাবে চলাফেরা, বখাটেপনা, মারামারি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে একযোগে অভিযান চালানোর উদ্যোগ নেয় জেলা পুলিশ।

রাজন হত্যা মামলায় রায়ের ৯ বছরেও হয়নি আপিল নিষ্পত্তি

কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশে জেলার ১৮টি থানায় একই সময়ে অভিযান শুরু করা হয়। কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থান ছাড়াও প্রতিটি থানার আওতাধীন বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে—এমন স্থানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, আড্ডাস্থল ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটকদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো অপরাধের মামলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যাতে ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে না পারে, সে লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

পানিতে ভাসছিল ড্রাম, খুলে মিলল মরদেহ

পুলিশের এই বিশেষ অভিযানকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়। সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত একযোগে অভিযান চলায় অনেক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করাই নয়, কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেপনার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

—জা. অর্থনীতি/এনজে