সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের চাঞ্চল্যকর ও নির্মম শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার বিচারিক আদালতের ঐতিহাসিক রায়ের ৯ বছর পার হয়ে গেলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এখনও মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। দ্রুততম সময়ে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে শুনানি শেষ হলেও সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি ঝুলে থাকায় দণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে। এতে রাজনের পরিবার ও সচেতন নাগরিক সমাজের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অসত্য অভিযোগ তুলে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। বর্বর এ নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। জনমতের তীব্র চাপে ত্বরান্বিত তদন্ত শেষে মাত্র ১৭ কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন করে ২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর রায় দেন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত।
ঐতিহাসিক রায়ে মামলার মূল আসামি কামরুল ইসলাম, ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও পলাতক জাকির হোসেন পাভেল আহমদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি সহযোগী নূর মিয়াকে যাবজ্জীবন এবং অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল হাইকোর্ট চার আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। তবে হাইকোর্টের আদেশের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষ থেকে আপিল করা হলে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যায়। কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের পর দীর্ঘ সময় গড়িয়ে গেলেও সর্বোচ্চ আদালতে আপিলটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি অধরা রয়ে গেছে।
এদিকে রায় বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হওয়ায় গভীর শোক ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন রাজনের মা-বাবা। রাজনের বাবা শেখ মো. আজিজুর রহমান আলম আক্ষেপ করে বলেন, "ছেলেকে হারিয়েছি আজ এত বছর। আদালত রায় দিয়েছেন, হাইকোর্টেও তা বহাল রয়েছে। কিন্তু এতদিন পার হয়ে গেলেও কেন চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হচ্ছে না, তা আমরা জানি না। প্রতিবার আদালতে গিয়েও কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর পাচ্ছি না। আমরা শুধু দ্রুত এ রায়ের বাস্তবায়ন দেখে যেতে চাই।" রাজনের মা লুবনা আক্তার সন্তান হারানোর বিচারিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের আকুল আরতি জানান।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের পর মূল আসামি কামরুল ইসলাম সৌদি আরবে পালিয়ে গেলেও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়তায় তাকে আটক করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। দ্রুততম সময়ে নিম্ন ও উচ্চ আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হলেও আপিল বিভাগের এই দীর্ঘসূত্রতায় শিশু রাজন হত্যার পূর্ণাঙ্গ বিচার পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রতিক্ষা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি