জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: তফসিল ঘোষণার আগেই এক আসনেই ৯ জন বিএনপির প্রার্থী! ফেনীর মোটবী ইউনিয়নে যা শুরু হয়েছে, তা কি শুধুই চেয়ার পাওয়ার লড়াই, নাকি সামনে থাকা চার হাজার সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির ভেতরে বড় কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস?
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে বইতে শুরু করেছে নতুন হাওয়া। এখনো নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেনি, সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ তফসিল আসার কথা রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে বিএনপি সমর্থিত সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগে নেমে পড়েছেন।
দলীয় সূত্রের খবর, দেশের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই বিএনপির একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদের জন্য আগ্রহী। কোনো কোনো জায়গায় তিন-চারজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও ফেনী সদর উপজেলার মোটবী ইউনিয়নে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে! সাবেক চেয়ারম্যান জেলা পরিষদের প্রশাসক হওয়ায় ফাঁকা মাঠে এবার বিএনপির পদে থাকা নেতা থেকে শুরু করে সাবেক ছাত্রদল, যুবদল নেতা এবং প্রবাসী প্রার্থীরাও পোস্টার টাঙিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতি শুধু একটি ইউনিয়নেই সীমাবদ্ধ নয়। সাড়ে চার হাজারেরও বেশি ইউনিয়ন পরিষদে দল-সমর্থিত একক প্রার্থী নিশ্চিত করা এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামাল দেওয়াই এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সামনে সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ।
যদিও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যেই জেলা ও মহানগর নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচনে ‘একক প্রার্থী’ নিশ্চিত করার জন্য। তিনি স্পষ্ট করেছেন, দলের ঐক্য বজায় রেখে একজনকেই বিজয়ী করে আনতে হবে। দলের হাইকমান্ড থেকে বলা হচ্ছে, মাঠে যাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতি বেশি, তাঁকেই সমর্থন দেওয়া হবে। কোনো নেতা যদি সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন, তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের মতো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিন্তু তৃণমূলের বাস্তবতা একটু ভিন্ন। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি দলীয়ভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়নি। ফলে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এবার বাঁধভাঙা আগ্রহ। নির্বাচন কমিশন এই বছরের শেষ দিকে, অর্থাৎ নভেম্বরের দিকে ভোট শুরু করার পরিকল্পনা করছে। ফলে সময় খুবই কম।
এর মধ্যেই বিএনপির মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রধান বিরোধী জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থীদের আগাম সক্রিয়তা। অন্যদিকে নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কৌশল বদলে স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে নামতে পারেন—এমন শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে বাইরের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সামলানোর আগে নিজের ঘরের ৯ প্রার্থীকে কীভাবে সমঝোতায় এনে এক ছাতার নিচে দাঁড় করায় বিএনপি, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
—জা.অর্থনীতি/জেআরটি
