জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেট এলাকায় ইশরাত জাহান মিমি হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অনৈতিক সম্পর্ক, ব্ল্যাকমেল ও অর্থ দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে পিবিআই জামালপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।
পিবিআই জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অভিযুক্ত কাউসার আহমেদ খান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রাফি স্টোর নামের একটি দোকানে কেনাকাটার সূত্রে মিমির সঙ্গে কাউসারের পরিচয় ও অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে কাউসারকে ব্ল্যাকমেল করে অর্থ আদায় করতেন মিমি, যার জন্য সঞ্চিত অর্থসহ জমি ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করতে বাধ্য হন কাউসার।
ঘটনার দিন (২২ আগস্ট) মিমি ফের টাকা দাবি করলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে সব জানিয়ে দিলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কাউসার তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। ঘটনার পর ২৩ আগস্ট সকালে ভবনের পঞ্চম তলার কক্ষ থেকে মিমির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পরদিন ২৪ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মনিরাজপুর এলাকার মো. রফিক খানের ছেলে কাউসার আহমেদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে নিহতের মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিবিআই জামালপুরের এসপি জানান, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে এবং তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি