আজ আপনি সকালে টুথব্রাশে যে পেস্টটুকু নিলেন, তার পেছনে লুকিয়ে আছে হাজার বছরেরও পুরোনো এক বিস্ময়কর গল্প, যেখানে বিজ্ঞান, রুচি আর দ্বীনের শিক্ষা মিলেমিশে জন্ম দিয়েছিল আজকের ওরাল কেয়ার শিল্পের প্রথম বীজ। জানলে অবাক হবেন, এই বিপ্লবের নায়ক কোনো আধুনিক গবেষক নন, নবম শতাব্দীর আন্দালুসিয়ার এক বহুমুখী প্রতিভাধর মানুষ, নাম যাঁর জিরিয়াব।
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা আর মুখগহ্বরের যত্নে মধ্যযুগীয় মুসলিম সভ্যতার অবদান এতটাই গভীর যে, আজকের আধুনিক টুথপেস্টের শিকড় খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হয় নবম শতাব্দীর ঝলমলে আন্দালুসিয়ায়। সেখানেই সুন্নাহর আলো অনুসরণ করে মিসওয়াকের প্রাকৃতিক ব্যবহারের পাশাপাশি, দাঁত পরিষ্কার আর মুখ সুবাসিত রাখার জন্য প্রথম কার্যকর ডেন্টিফ্রিস বা দাঁতের পেস্ট তৈরি করেন এক অসাধারণ মানুষ, পণ্ডিত, সঙ্গীতজ্ঞ এবং নান্দনিক জীবনযাত্রার পথপ্রদর্শক জিরিয়াব।
ইসলামের শিক্ষায় শারীরিক পবিত্রতা আর পরিচ্ছন্নতাকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ মর্যাদা। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে প্রতিটি সালাতের আগে মিসওয়াক করার ওপর জোর দিতেন, এটি ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। পিলু, আরাক কিংবা জাইতুন গাছের কচি ডাল থেকে তৈরি এই সাধারণ অথচ অসাধারণ মিসওয়াকে লুকিয়ে ছিল এমন সব প্রাকৃতিক উপাদান, যা আজকের বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে দারুণ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিসেপ্টিক গুণসম্পন্ন—শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যা মুখগহ্বরকে রেখেছিল জীবাণুমুক্ত ও সুস্থ।
প্রথম টুথপেস্টের জন্মকথা: নবম শতাব্দীতে মুসলিম স্পেনের (আন্দালুসিয়া) জমকালো দরবারে বসে জিরিয়াব তৈরি করেন এক বিশেষ দাঁতের পেস্ট। এটি শুধু দাঁতের ময়লা আর মাড়ির জমা আবর্জনা নিপুণভাবে সাফ করতই না, দীর্ঘক্ষণ মুখগহ্বরকে রাখত সতেজ আর মিষ্টি সুবাসে ভরপুর।
যে কারণে মানুষের মন জয় করেছিল: সেই যুগে প্রচলিত অন্যান্য ঘরোয়া বা রুক্ষ উপকরণে তৈরি মিশ্রণগুলো ছিল তেতো, কর্কশ আর অনেক সময় দুর্গন্ধযুক্ত। কিন্তু জিরিয়াবের এই পেস্ট ছিল একেবারে ভিন্ন,স্বাদে মধুর, ব্যবহারে আরামদায়ক আর সুবাসে মন মাতানো। তাই সময় লাগেনি এটি আন্দালুসিয়ার রাজদরবার থেকে ছড়িয়ে পড়তে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে, হয়ে উঠতে সবার প্রিয়।
মিসওয়াকের প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যগুণ আর জিরিয়াবের এই যুগান্তকারী সুগন্ধি পেস্ট, এই দুইয়ের মেলবন্ধনই আসলে গড়ে দিয়েছিল আজকের বিশ্বজোড়া কসমেটিক ও ওরাল কেয়ার শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর।
জা.অর্থনীতি
