দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে আমাদের করণীয় কী?
ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম ডেস্ক:  হঠাৎ ধেয়ে আসা বানের পানি, প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় কিংবা আকস্মিক ভূমিধস—নিমিষেই কেড়ে নিচ্ছে হাজারো মানুষের বেঁচে থাকার সম্বল। চোখের সামনে যখন সাজানো সংসার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়, তখন নিঃস্ব এই মানুষগুলোর পাশে আমরা কি পারি কেবল দর্শক হয়ে থাকতে? দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসা শুধু আমাদের মানবিক দায়িত্বই নয়; বরং ইসলামের দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এক ইবাদত।

ইসলামের শিক্ষা হলো, একজন প্রকৃত মুমিন নিজের স্বার্থের গণ্ডি পেরিয়ে বিপন্ন মানুষের সাহায্যে ছুটে যাবেন। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই গুরুত্ব ইসলামে কয়েকটি দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হয়েছে:

বিপদগ্রস্তের কষ্ট লাঘব করা তাকওয়ার অন্যতম লক্ষণ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো (সুরা মায়েদা, ২)। বস্তুত, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে সহজ পথ হলো মানুষের সেবা করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ সে-ই, যে মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করে। (তাবারানি)

মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। আর এই ভ্রাতৃত্ববোধের সেরা প্রমাণ মেলে বিপদের দিনেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুসংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন। (সহিহ মুসলিম)। এছাড়া, দুর্যোগে দেওয়া সামান্য দানও আল্লাহর কাছে বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

অনেকে ভাবেন, সাহায্য করতে বুঝি অনেক টাকার প্রয়োজন! অথচ ইসলাম বলে, সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো ভালো কাজই সদকা। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া, অসুস্থদের সেবা করা, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা বা কেবল সান্ত্বনার একটি বাক্য শোনানোও বিরাট সওয়াবের কাজ।

রাসুল (সা.) বলেছেন, যারা পৃথিবীর মানুষের প্রতি দয়া করে, পরম দয়ালু আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করেন। (জামে তিরমিজি)

তাই আসুন, সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে আমরা বানভাসি ও দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই। আজ আমরা অন্যের বিপদে হাত বাড়ালে, কাল আমাদের কঠিন বিপদে আল্লাহতায়ালা তাঁর অশেষ রহমত নিয়ে আমাদের পাশে থাকবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আর্তমানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জা. অর্থনীতি/ উমার