টানা বৃষ্টির প্রভাবে সাত নদীর পানি বিপৎসীমা ছোঁয়ার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে আগামী তিন দিনের মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাতটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী ও খাগড়াছড়ি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

রবিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) প্রকাশিত সর্বশেষ বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। 

পূর্বাভাস অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানির উচ্চতা গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি আরও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। 

এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের ত্রিপুরা ও আসামেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ৫ দিন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানির প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে, যা নদ-নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। 

অন্যদিকে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানিও আগামী ৭২ ঘণ্টায় দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আপাতত বিপদসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এদিকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে থাকা দেশের ১২৭টি পানি পরিমাপ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এখনও কোনো নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে আবহাওয়া ও উজানের পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ