আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী এবং অন্যজন ওই স্কুলের একজন নারী শিক্ষক। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ক্লাস চলাকালীন তিনতলাবিশিষ্ট ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আরও অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মুহাম্মদ অসিম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর তাঁদের হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে ৩৩টি মরদেহ নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে প্রদেশের ডেপুটি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট আরও দুটি শিশুর মরদেহ হাসপাতালে পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের অনেকের অবস্থাই অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় সেখানে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, নিহত শিক্ষার্থীদের সবার বয়সই ১৪ বছরের নিচে।
পেশোয়ারের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ডা. মিঞা সাঈদ জানান, তিনতলা স্কুল ভবনটি শহরের অত্যন্ত জনবহুল ‘দীর কলোনি’ এলাকায় অবস্থিত। ঘনবসতি এবং অলিগলি অত্যন্ত সরু হওয়ার কারণে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর গাড়ি ও উদ্ধারকর্মীদের দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে তীব্র প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে। ছাদটি যখন ধসে পড়ে, তখন সংশ্লিষ্ট শ্রেণিকক্ষে ৩০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে স্কুল ভবনটির মারাত্মক কাঠামোগত দুর্বলতার তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ কর্মকর্তা মিঞা সাঈদ উল্লেখ করেন, স্কুলটির ছাদ তৈরিতে মাটির তৈরি ভারী টাইলস ব্যবহার করা হয়েছিল। জরাজীর্ণ ভবনটি সেই ভারী টাইলসের বাড়তি ওজন সহ্য করতে না পেরেই আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার পর ভবনটির অবশিষ্ট অংশও চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় পুরো কাঠামো ধসে পড়ার আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত সবাইকে ভবন থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেন।
জেএ/অভি