খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: ভোররাতের আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ি পৌরসভার একাধিক নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং বাসাবাড়ির আসবাবপত্র বিনষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টার টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ি পৌরসভার ইসলামপুর, মধুপুর এপিবিএন এলাকা, শালবাগানসহ বেশ কয়েকটি নিচু অঞ্চলের বাসাবাড়িতে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে। নিখোঁজ বা প্রাণহানির খবর না পাওয়া গেলেও হঠাৎ ঘরে কোমরসমান পানি উঠে যাওয়ায় বাসিন্দারা নিজেদের নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অনিয়ম ও পাহাড়ি ছড়া-খাল দখল হয়ে যাওয়ার কারণেই পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিকভাবে হতে পারছে না। ইসলামপুরের বাসিন্দা রেহেনা পারভিন রুমা বলেন, "ছড়াগুলো অবৈধভাবে দখল হওয়ায় বৃষ্টির পানি সরতে পারে না, ফলে নিমিষেই বাসাবাড়ি কাদাপানিতে ভেসে যায়।" অন্যদিকে মধুপুর এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জানান, মধুপুর ছড়ার ওপর দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা স্লুইসগেটে পাহাড়ি গাছ-বাঁশ ও জঙ্গল আটকে যাওয়ায় উপচে পড়া পানি লোকালয়ে ঢুকে এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি করেছে।
ফ্লাড ফোরকাস্টিং অ্যান্ড ওয়ার্নিং সেন্টারের (এফএফডব্লিউসি) সূত্রমতে, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার রামগড়ে সর্বোচ্চ ৮৩.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে দুপুরেই খাগড়াছড়ি সদর জোনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার ও মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য এমএন আবছার জানান, পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হয়ে পড়া এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই প্রতি বছরই শহরবাসীকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রত ছড়া-খাল দখলমুক্ত না করলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। দুর্ভোগ নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি খাল পুনঃখনন ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালুর জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসীরা।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি