রেস্ট হাউজে ক্লাবের আড়ালে কী? (ভিডিও)
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

রাত তখন প্রায় পৌনে দু’টা। চারপাশ সুনসান নীরব। তবে গুলশান-২ এর ১০৪ নম্বর রোডের ২৪ নম্বর বাসার ভেতরের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। বাইরে ঝুলছে ‘৭৮ রেস্টহাউজ’-এর সাইনবোর্ড, তবে ভেতরে চলছে তথাকথিত ‘জার্মান ক্লাব’-এর জমজমাট অবৈধ বার ও অনৈতিক ডিজে পার্টি।

খবর পেয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি সৈয়দ জান্নাত আরা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন বিশ্বাসের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি দল চালায় অভিযান। শুরুতে ভেতর থেকে সৌদি আরব ও কুয়েত দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ বিদেশি নাগরিকদের নিরাপদে বের করে দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় পুরো ভবনে তল্লাশি।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য! বাইরে ‘জার্মান ক্লাব’ বলা হলেও বাস্তবে এমন কোনো নিবন্ধনের অস্তিত্বই নেই। নেই বার পরিচালনার কোনো আইনি বৈধতাও। অভিযান শেষে উদ্ধার করা হয় ২২৩ বোতল নামি-দামি ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ এবং ৫৪ বোতল হান্টার বিয়ার। যার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

অবৈধভাবে চোরাই পথে আসা মদ সরবরাহ ও বার পরিচালনার দায়ে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয় প্রতিষ্ঠানের অ্যাডমিন ম্যানেজার শামীমকে।

এই অংশ যাবে- ‘৭৮ রেস্টহাউস সোসাইটি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ‘জার্মান ক্লাব’ নাম ব্যবহার করে অবৈধ মদ এবং ডিজে পার্টির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। মূলত ‘জার্মান ক্লাব’ নামটি সম্পূর্ণ ভুয়া। তাদের কোনো বৈধ নিবন্ধন বা বার লাইসেন্স ছিল না। অভিযানে উদ্ধারকৃত এই মাদকগুলো তারা চোরাই পথে সংগ্রহ করত।'

অভিযান চালানো হলেও এই অবৈধ সিন্ডিকেটের মূল হোতা পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ডিএনসি।

ভুয়া পরিচয় দিয়ে অভিজাত এলাকায় মাদক ও অসামাজিক কাজ চালানো সিন্ডিকেটের বাকি সহযোগীদের চিহ্নিত করে মাদক আইনে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে অধিদপ্তর।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি