এম.আর রুবেল: রাজধানীর গুলশানে রেস্ট হাউজের আড়ালে অনুমোদনহীন অবৈধ বার এবং অনৈতিক ডিজে পার্টি পরিচালনার অভিযোগে কথিত ‘জার্মান ক্লাব’ (৭৮ রেস্টহাউজ)-এ অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধারসহ প্রতিষ্ঠানটির অ্যাডমিন ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিনগত গভীর রাতে (রাত ১টা ৫৫ মিনিট থেকে ভোর ৪টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত) গুলশান-২ এর ১০৪ নম্বর রোডের ২৪ নম্বর বাসায় অবস্থিত ওই রেস্ট হাউজে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত ডিআইজি) সৈয়দ জান্নাত আরা, অতিরিক্ত পরিচালক জাহিদ হোসেন মোল্লা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন বিশ্বাসের যৌথ নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন সদস্যের একটি অভিযান পরিচালনাকারী দল এতে অংশ নেয়।

কূটনীতিকদের বের করে অভিযান, মেলেনি বৈধ কাগজ:
অভিযান শুরুর প্রাক্কালে ক্লাবের ভেতরে উপস্থিত থাকা সৌদি আরব ও কুয়েত দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশি নাগরিকদের নিরাপদে বের করে দেওয়া হয়।
তদন্ত ও অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ‘জার্মান ক্লাব’ নামে পরিচিতি দিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও প্রকৃতপক্ষে ‘জার্মান ক্লাব’ নামে তাদের কোনো আইনি নিবন্ধন নেই। প্রতিষ্ঠানটি মূলত ‘৭৮ রেস্টহাউজ’ নামে লাইসেন্স নিয়ে এর আড়ালে অবৈধভাবে বারের ব্যবসা এবং ডিজে পার্টিসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। এমনকি তাদের কোনো বৈধ বারের লাইসেন্সও ছিল না।
মদ-বিয়ার জব্দ ও গ্রেপ্তার:
অভিযানকালে ক্লাবের ভেতর থেকে লাইসেন্সবিহীন ২২৩ বোতল (১৭৭.৫ লিটার) বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামি বিদেশি মদ এবং ৫৪ বোতল (১৭.৮২ লিটার) হান্টার বিয়ার উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মোট ৩৮২টি বিয়ার ও মদের বোতলের বিপরীতে ক্লাব কর্তৃপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
অনুমোদনহীন এই বার পরিচালনার দায়ে স্পট থেকেই ক্লাবের অ্যাডমিন ম্যানেজার শামীমকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বক্তব্য:
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেহেদী হাসান বলেন— ‘৭৮ রেস্ট হাউস সোসাইটি' নামের একটি প্রতিষ্ঠান 'জার্মান ক্লাব' নাম ব্যবহার করে অবৈধ মদ এবং ডিজে পার্টির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। মূলত 'জার্মান ক্লাব' নামটি সম্পূর্ণ ভুয়া। ৭৮ রেস্ট হাউস সোসাইটি নামে তাদের কোনো বৈধ নিবন্ধন কিংবা বার লাইসেন্স ছিল না, অথচ তারা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাদক সরবরাহ করে আসছিল। অভিযানে তাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকগুলো তারা চোরাই পথে সংগ্রহ করত।’
তিনি আরও জানান, এই অবৈধ কার্যক্রমের প্রধান আয়োজক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি এই চক্রের সাথে অন্য কোনো সিন্ডিকেট জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চালানো হবে।
অধিদপ্তর জানায়, ভুয়া পরিচয়ে অবৈধ বার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
—জা. অর্থনীতি/এএইচএ