আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে গুলি করে হত্যার পর তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ঘরে ঢুকে পড়েন এক যুবক। প্রায় সাত ঘণ্টা পুলিশের সঙ্গে দর-কষাকষির পর অভিযানে তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের পাল্টা গুলিতে আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আজমগড়ের অরবিন্দ সিংহের বাড়িতে পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়ি ফিরে স্ত্রী ববিতা সিংহকে পুজোয় ব্যস্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পুজো আয়োজন নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে লাইসেন্স করা পিস্তল বের করে স্ত্রীকে গুলি করেন অরবিন্দ। পরে দুই পুরোহিত মহেন্দ্র পাঠক ও অখিলেশ মিশ্রকেও গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। এ সময় সেখানে থাকা অন্য পুরোহিতেরা পালিয়ে যান।
মাকে গুলি করে হত্যার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়ে অরবিন্দের তিন সন্তান। এরপর তাদের নিয়ে একটি ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়। তবে অরবিন্দ হুমকি দেন, তাকে ধরার চেষ্টা করা হলে সন্তানদের গুলি করবেন।
আজমগড়ের এসএসপি অনিল কুমার জানান, অরবিন্দকে সন্তানদের নিয়ে বের করে আনতে পরিবারের সদস্যদেরও কাজে লাগানো হয়। কিন্তু তিনি আত্মসমর্পণে রাজি হননি।
কয়েক ঘণ্টা পর অরবিন্দ তার ১০ বছরের ছেলেকে গুলি করেন। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি চালান অরবিন্দ। একপর্যায়ে তার পিস্তলের গুলি শেষ হয়ে গেলে পুলিশের পাল্টা গুলিতে তিনি আহত হন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ঘর থেকে দুই নাবালিকা কন্যাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের হাসপাতালে রাখা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
জা.অর্থনীতি/এসআই