প্রাচীন উত্তর মন্দিরের তালা কেটে কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ স্বর্ণালংকার চুরি
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর জেলা শহরের সদর হাসপাতাল সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ীর ২ নম্বর উত্তর মন্দিরে এক দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। মন্দিরের একাধিক গেটের হেভি-ডিউটি তালা কেটে বহুমূল্য কষ্টিপাথরের মূর্তি, সোনা ও রূপার অলংকার এবং বেশ কয়েকটি পিতল-রুপার দেব-দেবীর বিগ্রহ চুরি করে নিয়ে গেছে অজ্ঞাতনামা একদল দুর্বৃত্ত।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে গৃহবধূ শিখা চক্রবর্তী মন্দিরের গেটের তালা ভাঙা ও ভেতরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে স্বামী, মন্দিরের দারোয়ান ও পূজারিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

স্থানীয় ও মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিদিনের মতো পূজা-অর্চনা শেষ করে মন্দিরের সবকটি গেটে তালা লাগিয়ে বাসায় চলে যান সেবায়েত দেব প্রসাদ চক্রবর্তী।  

সবাই ভেতরে প্রবেশ করে দেখতে পান, কষ্টিপাথরের তৈরি মূল্যবান মূল কালীমূর্তি, পিতলের তৈরি গণেশ, নারায়ণ ও লক্ষ্মী মূর্তি এবং রুপার তৈরি মনসা, বিষ্ণু, গোপাল ও শিবলিঙ্গে পেঁচানো সাপের মূর্তি উধাও রয়েছে। এর পাশাপাশি মূর্তির গায়ে শোভা পাওয়া প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২০ ভরি রুপার তৈরি গহনা চুরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা।

পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে মন্দিরের পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তির একটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও খোয়া যাওয়া সোনা-রূপার অলংকার ও অন্য মূল্যবান বিগ্রহগুলোর কোনো হদিস মেলেনি।

ঐতিহাসিক মন্দিরে এমন দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় জেলাজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় মন্দির কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

খবর পেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান এবং সিআইডির একটি বিশেষ অপরাধ তদন্ত দল (ক্রাইম সিন) দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা আলামত সংগ্রহসহ ছায়া তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, "ঐতিহ্যবাহী মন্দিরে চুরির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি চুরি হওয়া সোনা-রুপা ও ধর্মীয় বিগ্রহগুলো উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠপর্যায়ে অভিযানে নেমেছে।"  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি