কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিসহ কোটি টাকার মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর শহরের সদর হাসপাতাল সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী 'পুরাতন কালীবাড়ী'র উত্তর মন্দির থেকে চুরি হওয়া আনুমানিক ১ কোটি টাকা মূল্যের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, অন্যান্য বিগ্রহ এবং বিপুল পরিমাণ সোনা ও রুপার অলংকার উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ চোর চক্রের চার সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

পুলিশ ও মন্দির সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিদিনের মতো পূজা-অর্চনা শেষে মন্দিরে সেবায়েত ও মন্দির কমিটির সভাপতি কুণাল চক্রবর্তী কোলাপসিবল গেট, কাঠের দরজা ও শাটার বন্ধ করে বাসায় যান। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, সব কটি তালা কেটে দুষ্কৃতকারীরা কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ মূল্যবান অলংকার ও অন্যান্য সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে এবং এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন: প্রাচীন উত্তর মন্দিরের তালা কেটে কষ্টিপাথরের মূর্তিসহ স্বর্ণালংকার চুরি

ঘটনার পরপরই চাঞ্চল্যকর এই চুরির রহস্য উদ্ঘাটন ও মালামাল উদ্ধারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), কোতোয়ালী থানার ওসি ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক টিম অভিযানে নামে। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের মূল হোতাসহ ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার বুরাইচ এলাকার আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৯) ও সাজেদা বেগম (৬২), বোয়ালমারীর কান্দাকুল এলাকার আল আমিন মোল্লা (২৪) এবং বোয়ালমারীর স্থানীয় জুয়েলারি ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাজেদা বেগমের বসতবাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচ থেকে চুরি হওয়া সোনা-রুপার অলংকার ও ৬টি পিতলের প্রতিমা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সাদ্দাম ও আল আমিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বোয়ালমারীর কয়েলাপাত এলাকায় একটি ঘরের পেছনের মাটির নিচ থেকে বস্তায় মোড়ানো ঐতিহ্যবাহী কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বোয়ালমারীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমানের দোকান থেকে চোরাই গলানো ৮ আনা সোনা উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে আনুমানিক ১ কোটি টাকা মূল্যের ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৫ ভরি সোনালী অলংকার, ৯০ হাজার টাকা মূল্যের ৩০ ভরি রুপার অলংকার এবং ২৪ হাজার টাকা মূল্যের রাধা-কৃষ্ণ, মনসা ও মহাদেবসহ ৬টি পিতলের বিগ্রহ (ওজন ৮ কেজি)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি সাদ্দামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও মূর্তি চুরিসহ ১০টিরও বেশি এবং আল আমিনের বিরুদ্ধে ৮টির বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

ক্লু-লেস এই চুরির ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে মূল রহস্য উন্মোচন ও শতভাগ মালামাল উদ্ধার হওয়ায় জেলা পুলিশের প্রশংসা করছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও সুশীল সমাজ। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উদ্ধারকৃত দেববিগ্রহ ও অলংকার আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি