নেবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান
ছবি: জাতীয় অর্থনীতি

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (নেবি) টিএসসি ও ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে এক নতুন পরিবেশ, নতুন উদ্দীপনা। 

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ,যিনি সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসে যিনি গোটা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সগর্বে নিজ হাতে তুলে নিয়েছেন ঝাড়ু।

উনার মাথায় সার্জিক্যাল ক্যাপ, হাতে গ্লাভস আর ঝাড়ু নিয়ে তিনি নেমে পড়েছেন ক্যাম্পাসের আগাছা আর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে। তিনি প্রফেসর ড. মো: খালেদ উজ্জামান, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য।

তিনি সারা দেশে যখন ডেঙ্গুর ভয়াল থাবা, যখন এডিস মশার কামড়ে ঝরে যাচ্ছে একের পর এক তাজা প্রাণ, এমনকি নিষ্পাপ শিশুরাও- ঠিক তখন কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে নেমে এসেছেন।আর তাতে শিক্ষার্থীদের মনে জেগেছে শ্রদ্ধা বোধ ও চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজটি ছোট নয়, বরং এটি সবার বাঁচার তাগিদ- এ চেতনা।

তিনি হাতে ময়লা পরিষ্কার করছিলেন, তখন তাকে ঘিরে ছিলেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা। এমন দৃশ্য দেখে মুগ্ধ সবাই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় তিনি বলেন, “আমি আমার শিক্ষার্থীদের বুঝেয়াছি, আমি পরিবেশ বান্ধব ও আমি একজন শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক। পরিবেশ অবশ্যই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি বরাবরই বিশ্বাস করি, শিক্ষক নিজে কাজ করলে তাকে দেখে শিক্ষার্থীরাও উদ্বুদ্ধ হবে। ক্যাম্পাসে চলমান পরীক্ষার কারণে অনেক শিক্ষার্থী চাইলেও এই কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেনি, তবে পরীক্ষা শেষে সবাইকে নিয়েই পরিচ্ছন্নতা উৎসব চলবে বলে জানান তিনি।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ‘তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’। তবে উপাচার্যের লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী। তিনি চান পরিচ্ছন্নতা যেন শুধু তিন মাসের কোনো রুটিন কাজে আটকে না থাকে। বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব থেকে শুরু করে। 

উপাচার্য মনে করিয়ে দেন সেই শাশ্বত বাণী- “পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।” চারপাশ পরিষ্কার থাকলে মন প্রফুল্ল থাকে, আর ডেঙ্গুর মতো প্রাণঘাতী রোগ থেকে জীবন বাঁচাতে এর বিকল্প নেই। উপরওয়ালার ওপর ভরসা রাখার পাশাপাশি নিজেদেরও যে সজাগ ও সচেতন হতে হবে, সেই তাগিদই বারবার উঠে এসেছে তার কণ্ঠে।

নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্ত্বরে তাই শুধু গতানুগতিক অভিযানের উদ্বোধনের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে দায়িত্ববোধ, সচেতনতা আর বিনয়ের এক অনন্য গল্প। উপাচার্যের হাতের ওই ঝাড়ু যেন এদিন কেবল ক্যাম্পাসের ময়লাই পরিষ্কার করেনি, ধুয়ে মুছে দিয়েছে পদমর্যাদার অহংকারও। এর কোন বিকল্প নেই, হতবাক চারদিকের সবাই।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি