জাবি প্রতিনিধি: মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুই ঈদ। এই সময়টায় সবাই চায় পরিবারের কাছে ফিরতে, প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
ঈদুল আজহা সামনে রেখে সেই চিত্রই দেখা যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।
গত ২১ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। ছুটি শুরু হতেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে পরিবারে ফিরতে ক্যাম্পাস ছাড়ছেন।
তবে সবার এই আনন্দযাত্রার মাঝেও কিছু মানুষ নীরবে থেকে যাচ্ছেন দায়িত্বের জায়গায়। তাদেরই একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী কিবরিয়া হাওলাদার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে তিনি প্রতিদিনের মতোই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ঈদ তার কাছেও আসে, কিন্তু পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ খুব কমই আসে।
১৭ বছরের চাকরি জীবনে মাত্র একবার ঈদের ছুটি পেয়েছেন তিনি। বাকি সব ঈদ কেটেছে ক্যাম্পাস পাহারা দিতে দিতেই।
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার বাসিন্দা কিবরিয়া হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত। কথা বলতে বলতে তার কণ্ঠে জমে থাকা অভিমান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, করোনার সময় পুরো দেশ যখন থেমে গিয়েছিল, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ঘরে ছিলেন, তখনও আমরা ডিউটি করেছি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্যাম্পাস পাহারা দিয়েছি। কিন্তু সেই সময় সরকারের ঘোষিত অতিরিক্ত সুবিধার একটি টাকাও আমরা পাইনি।
ঈদ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কিছুটা থেমে যান তিনি। তারপর ধীর কণ্ঠে বলেন, “সবাই তো চায় ঈদে বাড়ি যেতে, পরিবারের সঙ্গে থাকতে। আমরাও চাই। কিন্তু আমাদের সেই সুযোগ খুব কম আসে। লোকবল কম থাকায় ছুটি মেলে না।”
কিবরিয়ার মতো আরও অনেক নিরাপত্তাকর্মী আছেন, যাদের ঈদ মানে নতুন জামা নয়, পরিবারের সঙ্গে আনন্দ নয়; বরং ফাঁকা ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন। যখন হাজারো শিক্ষার্থী বাড়ির পথে, তখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রহর গুনছেন ক্যাম্পাসের ফটকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অদৃশ্য এই মানুষগুলোর ত্যাগ খুব কমই আলোচনায় আসে। অথচ উৎসবের আনন্দ সবার ঘরে পৌঁছে দিতে, ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখতে তারাই নীরবে কাজ করে যান বছরের পর বছর।
—জা. অর্থনীতি/এনজে